দ্য বেঙ্গল স্টোরি ব্যুরো: খুচরো পেট্রোল পাম্প থেকে শিল্প ও বাণিজ্যিক সংস্থার বাল্ক ডিজেল-পেট্রোল কেনায় রাশ টানল কেন্দ্র। ১১ জুন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে, শিল্প, বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকেরা আর সাধারণ খুচরো পাম্প থেকে বিপুল পরিমাণ Petrol Diesel কিনতে পারবেন না। আপাতত ৯০ দিনের জন্য এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে, প্রয়োজনে যা বাড়ানো হতে পারে।
কী বলছে নতুন নির্দেশিকা
নির্দেশিকাটির নাম ‘মোটর স্পিরিট অ্যান্ড হাই স্পিড ডিজেল (টেম্পোরারি রেগুলেশন অফ সাপ্লাই থ্রু রিটেল আউটলেটস) অর্ডার, ২০২৬’। এই নির্দেশ অনুযায়ী, শিল্প-কারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের এ বার নিজস্ব কনজ়িউমার পাম্প বা অনুমোদিত বাল্ক সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমেই জ্বালানি সংগ্রহ করতে হবে।
পাশাপাশি খুচরো পাম্পে ডিজেল বিক্রিতেও কড়াকড়ি আনা হয়েছে। মন্ত্রকের নির্দেশ, খুচরো আউটলেট থেকে ডিজেল কেবল গাড়ির জ্বালানি ট্যাঙ্কে অথবা পেসো (PESO) অনুমোদিত পাত্রেই দেওয়া যাবে। এক জন গ্রাহক বা একটি গাড়ির ক্ষেত্রে দৈনিক সর্বোচ্চ ২০০ লিটার ডিজেল কেনা যাবে এবং সেই ডিজেল পুনরায় বিক্রি করা যাবে না।
আরও পড়ুন: দুর্দান্ত এক ভুল পদক্ষেপ! কর্পোরেটকে ব্যাঙ্ক খুলতে দেওয়া নিয়ে কটাক্ষ অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসুর
কেন এই সিদ্ধান্ত
মন্ত্রকের বক্তব্য, বিশ্বের কয়েকটি অঞ্চলের ‘বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি’ আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম সরবরাহ শৃঙ্খল, পরিবহণ ও জোগানে প্রভাব ফেলেছে। ফেব্রুয়ারির শেষে পশ্চিম এশিয়ার সংকটের পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে যে অস্থিরতা তৈরি হয়, তার থেকে সাধারণ গ্রাহকদের রক্ষা করতে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি খুচরো দর নিয়ন্ত্রিত রেখেছিল।
এর ফলেই তৈরি হয় বড় দরের ফারাক। সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দিল্লিতে খুচরো পাম্পে যেখানে ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ৯৫.২০ টাকা, সেখানে বাল্ক দরে তা প্রায় ১৩৪.৫০ টাকা। এই বিরাট ফারাকের সুযোগ নিয়ে টেলিকম টাওয়ার, বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী শিল্প-সহ বহু বড় গ্রাহক বাল্ক না কিনে খুচরো পাম্পে ভিড় জমাতে শুরু করেন। দেশের কিছু অংশে ডিজেলের চাহিদায় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা দেওয়াতেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে মন্ত্রক।
সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব কতটা
এই নির্দেশিকা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা মূলত শিল্প, বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বড় গ্রাহকদের জন্য, সাধারণ ক্রেতাদের জন্য নয়। নিজের গাড়ি, বাইক বা স্কুটারে তেল ভরায় কোনও বাধা নেই।
আরও পড়ুন: ফের কমল সোনা-রুপোর দাম, উৎসবের মুখে হাসি ফুটলো মধ্যবিত্তদের ঠোঁটে
নির্দেশিকায় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থা ও অনুমোদিত খুচরো বিক্রেতাদের এই বিধি কার্যকর করার অধিকার দেওয়া হয়েছে। মজুতদারি, কালোবাজারি, অননুমোদিত সংগ্রহ ও জ্বালানি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার মতো প্রবণতা রুখতে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আপাতত ৯০ দিন এই বিধি বহাল থাকবে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন নির্দেশিকার মাধ্যমে এর মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে বলে মন্ত্রক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।