আরে অঞ্চল থেকে বিতর্কিত মেট্রো কারশেড প্রকল্পকে স্থানান্তরিত করল মহারাষ্ট্র সরকার। রবিবার মুম্বইয়ের আরে অঞ্চলের ৮০০ একর জমিকে সংরক্ষিত অরণ্য হিসেবে ঘোষণা করলেন মুখ্য মন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে।
প্রায় ২৩ হাজার ১৩৬ কোটি টাকার কোলাবা-বান্দ্রা মেট্রো প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ফড়নবীস সরকারের আমলে। এই প্রকল্পের কারশেড তৈরি করার জন্য আরে বনাঞ্চলটিকে বেছে নেওয়া হয়। প্রায় ৩০ একর জমির আনুমানিক ২,৭০০ গাছ কাটা নিয়ে গত বছর চরম বিবাদ শুরু হয় মহারাষ্ট্রের বিজেপি সরকার ও পরিবেশ প্রেমীদের মধ্যে। অবশেষে তাঁদের জন্য সুখবর শোনালেন মুখ্য মন্ত্রী।
মহারাষ্ট্রের মুখ্য মন্ত্রী ঘোষণা করেন, কারশেড প্রকল্প নিয়ে যে অনিশ্চয়তা চলছিল এবার তা শেষ হল। বায়ো-ডাইভার্সিটি রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য। তাই মেট্রো কারশেড প্রকল্পটিকে মুম্বইয়ের আরে কলোনি থেকে কঞ্জুরমার্গের একটি সরকারি জমিতে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে। উদ্ধব ঠাকরে এও বলেন, এই কাজে কোনও বাড়তি ব্যয় হবে না। কারণ, জমিটি বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। আগেই আরে এলাকার ছ’শো একর জমিকে সংরক্ষিত অরণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন তার পরিমাণ বাড়িয়ে ৮০০ একর করা হল বলে জানান উদ্ধব। আরের বনাঞ্চলে বসবাসকারী আদিবাসীদের অধিকার যাতে কোনও ভাবেই লঙ্ঘিত না হয়, তার দিকে কড়া নজর রাখারও আশ্বাস দিয়েছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্য মন্ত্রী। এছাড়াও ঠাকরে ঘোষণা করেন, আরে বনাঞ্চল রক্ষার দাবিতে লড়াই করতে গিয়ে যে পরিবেশকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তা প্রত্যাহার করা হবে। তাই রবিবার মুখ্য মন্ত্রীর ঘোষণার পরে পরিবেশকর্মীদের আন্দোলনেরও জয় হল বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখে ৩০৭ টি পঞ্চায়েত ব্লকের মধ্যে নির্দলরা জিতল ২১৭ আসন, বিজেপি দখলে ৮১
মেট্রো প্রকল্পের জন্য আরেতে ইতিমধ্যেই একটি ভবন তৈরি হয়েছে। সেটা কী হবে? উদ্ধব ঠাকরে জানান, আরে এলাকায় গড়ে ওঠা ওই ভবন সাধারণ মানুষের কাজে ব্যবহার করা হবে। এখানে যে ১০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে, তা জলে যাবে না। মহারাষ্ট্রের পরিবেশ মন্ত্রী আদিত্য ঠাকরে আরের বনভূমি রক্ষার লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। রবিবার আরেকে সংরক্ষিত অরণ্য ঘোষণার পর আদিত্য টুইট করেন, আরে বাঁচল!
প্রায় ৫ লক্ষ সবুজ গাছপালায় ঢাকা ১২৮০ হেক্টর আয়তনের আরে মায়ানগরীর ফুসফুস হিসাবে পরিচিত। ওই এলাকাতেই মেট্রোর রেলের কারশেড ডিপো গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিজেপির দেবেন্দ্র ফড়নবীসের সরকার। তার জন্য ২ হাজার ৬৪৬টি গাছ কাটার অনুমতি দেয় বৃহন্মুম্বই পুরসভার বৃক্ষ বিভাগ। এ নিয়ে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং সরকারের মধ্যে গত কয়েক বছর ধরে টানাপড়েন চলছিল। বিজেপি ও তাদের তৎকালীন জোট সঙ্গী শিবসেনার মধ্যে এই আরে বনাঞ্চল রক্ষা নিয়ে বিবাদ বাধে। মুখ্য মন্ত্রী হওয়ার পর উদ্ধব ঠাকরের প্রথম সিদ্ধান্তই ছিল বনাঞ্চল ধ্বংস বন্ধ করা। অবশেষে কারশেড প্রকল্পটিকেই আরে থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্য মন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে।




