এই কলকাতা শহরটি তাঁর বড় প্রিয়। এর সঙ্গে রয়েছে তাঁর নাড়ির টান। বৃদ্ধা মা এখনও এই শহরেই থাকেন। তাই এখনও ৪-৫ সপ্তাহ পরপরই উড়ে আসেন এই শহরে। এখানে তাঁর ছাত্রজীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে। ঘুরে বেড়িয়েছেন এই শহরের রাস্তায়। কাজেই কোন রাস্তা দিয়ে গেলে কোথায় তাড়াতাড়ি পৌঁছনো যাবে, সে সবই তাঁর নখদর্পণে। তিনি ভালোবাসেন সন্দেশ খেতে। সেই সুবাদে এক সময় কলকাতার মিষ্টির দোকানগুলিতে যাতায়াত ছিল তাঁর।
আরও পড়ুন: ইতিহাস পরীক্ষার দিনও ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’; মুখ্যমন্ত্রীকে পাশে পেয়ে আপ্লুত পড়ুয়ারা
সোমবার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে কলকাতা লিটারেরি মিটের শেষ সন্ধ্যায় নিজের নতুন বই ‘গুড ইকনমিক্স ফর হার্ড টাইমস’ এর আলোচনায় এসে বেশ কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন ২০১৯-এর অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক অভিজিৎ বিনায়ক ব্যানার্জি।
কলকাতা নিয়ে কথা হবে, আর কলকাতার খাবার নিয়ে কথা হবে না, তা আবার হয় নাকি? তিনি বলেন, ১৯৭০-১৯৮০, এই সময়টায় আমি এই শহরে বড় হয়ে উঠেছি। এই সময়টা সারা দেশের জন্য একটা খুবই খারাপ সময় ছিল। সেই সময়ে ২৫ পয়সায় সন্দেশ পাওয়া যেত। কিন্তু ধীরে ধীরে দেখা গেল, সেই সন্দেশ পাতলা হতে শুরু হল ও তার স্বাদও খারাপের দিকে যেতে থাকল। পরবর্তীকালে অবশ্য সেই গুণগত মান আবার ফিরে এসেছিল। কলকাতার রেস্টুরেন্ট নিয়ে বলতে গিয়ে নোবেলজয়ী বলেন, আমাদের সময়ে এত রেস্টুরেন্ট ছিল না।
এছাড়াও দর্শকদের কাছে নিজের রান্নাঘরের পারদর্শিতার কথাও তুলে ধরেন অভিজিৎ। তিনি বলেন, আমি রান্না করতে বড় ভালোবাসি এবং বাড়ি ফিরে প্রতিদিন রান্না করি। বছরে হয়ত বড় জোর কুড়িদিন এমন হয়, যখন রান্না করি না। নোবেল বিজয়ী স্ত্রী এস্তার ডুফলো সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য, এস্তার আমায় খুবই অনুপ্রেরণা দেন।
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মনে করেন, ভারতে গরিবি আগের তুলনায় অনেক কমেছে। কিন্তু গত ৫-৬ বছরে এই কমার হার অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। ভারতে বড়লোকেরা আরও বড়লোক হয়েছে এবং অসাম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁর আরও মন্তব্য, দেশের সংখ্যালঘুরা সংখ্যালঘুই। তারা কখনই সংখ্যাগুরু হবে না।