বিমানবন্দরে অভিষেকের স্ত্রীর ব্যাগে কাস্টমসের ‘তল্লাশি’ এবং ‘সোনা’ বিতর্ক। ‘সর্বৈব মিথ্যা, প্রমাণ হলে রাজনীতি ছেড়ে দেব’, অভিষেক

লোকসভা নির্বাচনের আগে এবার রাজ্য রাজ্যনীতিতে নয়া বিতর্ক। তৃণমূল শীর্ষ নেতা এবং লোকসভার সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি ব্যাঙ্কক থেকে কলকাতা ফেরার পথে বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ সোনা সহ আটক হন এবং তাঁকে কাস্টমসের হাত থেকে ছাড়াতে রাজ্য পুলিশ তৎপর হয় বলে গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন ধরনের খবর প্রকাশিত হয় একাধিক সংবাদমাধ্যমে। এই ইস্যুতে রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপি এবং সিপিএম। দু’পক্ষই গোটা ঘটনায় রাজ্য সরকার এবং রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে। এবার এই ইস্যুতে মুখ খুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে।
তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে অপপ্রচার হচ্ছে এবং বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করে অভিষেক বলেন, এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। রবিবার ডায়মন্ডহারবারে দলের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং আইনজীবীকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে অভিষেক প্রথমেই জানান, তাঁর এদিনের বক্তব্য সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। এর সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই। অভিষেক দাবি করেন, রাত ১২ টা ৪০ মিনিটে তাঁর স্ত্রী ব্যাঙ্ক থেকে কলকাতায় ফেরেন। তারপর ১ টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত বিমানবন্দরের যে কোনও সিসি টিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হোক। কাস্টমস তাদের তদন্তে বাধা দেওয়ার যে অভিযোগ করছে তা প্রমাণিত হলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। বরং অভিষেকের পালটা অভিযোগ, কাস্টমস অফিসাররা তাঁর স্ত্রীর কাছে ৫০ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। তিনি তা দিতে রাজি না হওয়াতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কুৎসা ছড়ানো হচ্ছে তাঁর স্ত্রীর নামে।
অভিষেক অভিযোগ করেন, তাঁর স্ত্রীর কাছে ২ কেজি সোনা ছিল বলে যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে তা সর্বৈব মিথ্যে। এর কোনও ভিত্তি নেই। যদি সোনা ছিলই, তবে কাস্টমস তা বাজেয়াপ্ত করল না কেন? তিনি বলেন, দিল্লির সরাসরি নির্দেশে কাস্টমসের পক্ষ থেকে তাঁর স্ত্রীর নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর পিছনে রয়েছে রাজনীতি। তৃণমূল বিজেপির কাছে আত্মসমর্পণ করেনি বলেই, তারা এই ব্যক্তিগত আক্রমণে নেমেছে। অভিষেকের বক্তব্য, তাঁর স্ত্রী চিকিৎসার জন্য ব্যাঙ্কক গিয়েছিলেন। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, কাস্টমস অফিসাররা যে তাঁর স্ত্রীকে হেনস্থা করেছেন এবং ৫০ হাজার টাকা চেয়েছেন, সেই মর্মে ঘটনার পরদিনই তাঁরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু কাস্টমস এই অভিযোগ দায়ের করতে এক সপ্তাহ লাগালো কেন? তৃণমূল সাংসদের দাবি, বিচার ব্যবস্থার প্রতি তাঁদের বিশ্বাস আছে। যে কোনও তদন্তের মুখোমুখি হতে তাঁরা রাজি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে রাজনীতি ছেড়ে দেব।
এদিন বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে সিপিএম এবং বিজেপি। সিপিএম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, কেন সেদিন মধ্য রাতে পুলিশ সাংসদের স্ত্রীকে উদ্ধার করতে ছুটে গিয়েছিল বিমানবন্দরে? সব কিছুর তদন্ত হোক। বিজেপির অভিযোগ, কেউ আইনের ওপরে নয়, কিন্তু বাংলায় একটি পরিবারকে বাঁচাতে কাজ করছে পুলিশ-প্রশাসন।

Comments
Loading...