এবার ইভিএম কারচুপির অভিযোগ সনিয়ার গলায়, প্রশ্ন তুললেন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে

ক্ষমতা ধরে রাখতে সমস্ত সীমা পার করে গিয়েছে বিজেপি, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে অনেক সংশয় আছে, রায়বেরিলির সভা থেকে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ তুললেন সনিয়া গান্ধী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ বিভিন্ন বিরোধী নেতারা লোকসভা ভোটে বিজেপির বিশাল ব্যবধানে জয়ে ইভিএম কারচুপির অভিযোগ আনছেন। এবার ইউপিএ চেয়ারপার্সন সনিয়া গান্ধীও সেই অভিযোগ তুললেন রায়বেরিলির সভা থেকে।
২০১৯ লোকসভা ভোটে উত্তর প্রদেশের ৮০ লোকসভা আসনের মাত্র ১ টি কেন্দ্রে জয়লাভ করেছে কংগ্রেস, আর সেটাও আবার সনিয়া গান্ধীর পুরনো গড় রায়বেরিলি কেন্দ্র। সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর বুধবার মেয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে নিয়ে রায়বেরিলিতে প্রথম জনসভা করলেন সনিয়া গান্ধী। আর সেখান থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুললেন তিনি। রায়বেরিলির সভা থেকে সনিয়া বলেন, দেশ এমন একটা নির্বাচন পেরিয়ে এলো, যার বিভিন্ন ধাপ নিয়ে অনেকের মনে দ্বন্দ্ব আছে। সনিয়ার অভিযোগ, ভোটারদের প্রভাবিত করতে নানা কৌশল নিয়েছে বিজেপি। সারা দেশ জানে বিজেপির এই কৌশলগুলি নৈতিক নাকি অনৈতিক, খোঁচা সনিয়ার।
২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে ৫৪৩ আসনের বিজেপি একাই জিতেছে ৩০৩ টি সিট, আর বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট জিতেছে ৩৫২ টি আসন। অন্যদিকে, মাত্র ৫২ আসনে জয়লাভ করে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা খুইয়েছে কংগ্রেস, এমনকী ১৮ টি রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে খাতাই খুলতে পারেনি তারা। সমস্ত রাজনৈতিক অঙ্ক বানচাল করে বিজেপির এই বিপুল জয়লাভে বারবার বিরোধী দলগুলি আঙুল তুলেছে ইভিএম কারচুপির দিকে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিভিন্ন সভা থেকেই অভিযোগ করছেন, এই ভোটে কারচুপি আর বিপুল টাকা ছড়িয়ে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসেছে মোদী সরকার। মমতা আঙুল তুলেছিলেন নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও। রায়বেরিলির সভায় সনিয়া গান্ধীও সেই একই অভিযোগ তুললেন। যোগী আদিত্যনাথের ‘মোদীজি কি সেনা’ মন্তব্য বা ৬ টি নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগে সবকটিতেই ক্লিনচিট পাওয়া মোদীকে কটাক্ষ করে সনিয়া বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকতে মরিয়া বিজেপি ভদ্রতার সব সীমা অতিক্রম করেছে এই লোকসভা ভোটে। আর এটাই দেশের কাছে সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য,বলে মন্তব্য করেন সনিয়া গান্ধী।

Comments are closed.