তীব্র গতিতে ধেয়ে আসছে আমফান। ১৯৯৯ সালে ওড়িশার সুপার সাইক্লোনের পর ফের এত শক্তিশালী ঝড়ের সম্মুখীন হতে চলেছে ভারত। আগামী বুধবার ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার বেগে বাংলায় আছড়ে পড়তে পারে এই ঘূর্ণিঝড়।
সোমবার রাত আড়াইটে নাগাদ ওড়িশার পারাদ্বীপ থেকে  ৫৭০ কিলোমিটার এবং দিঘা থেকে ৮৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল আমফান। আমফানের ঝাপটায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে দিঘা, মন্দারমণি, সুন্দরবনের সমুদ্র সৈকত এবং উপকূলবর্তী রাজ্যের এলাকাগুলি। রাজ্যের জেলাগুলির মধ্যে দুই মেদিনীপুর, দুই ২৪ পরগনা, কলকাতা, হুগলি ও নদিয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে এই সুপার সাইক্লোনের।
১৯৯৯ সালের সুপার সাইক্লোন ওড়িশার প্রায় ৯ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। ভারত, বাংলাদেশ এবং মায়ানমার মিলিয়ে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৪৪৪ কোটি মার্কিন ডলার। ২১ বছর পরে আবার এক সুপার সাইক্লোনের মুখোমুখি দেশ।
হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস, মঙ্গলবার থেকেই গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টি শুরু হতে পারে। বিকেলের পরে উপকূলে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। বুধবার সকাল থেকে তীব্র ঝোড়ো হাওয়া বইবে কলকাতা-সহ উপকূলবর্তী জেলায়। সেই সঙ্গে বিকেলের পর থেকে কলকাতা-সহ উপকূলের জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার বেগে ঝড় এবং অতিভারী বৃষ্টির আশঙ্কা আছে। ভারী বৃষ্টি হবে দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই। উপকূলে তিন থেকে ছয় মিটার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। উত্তর ওড়িশাতেও ঝড়ের প্রভাব পড়তে পারে বলে জানাচ্ছেন আবহবিদেরা। আয়লা বা ফণীর মতো ভয়ঙ্কর ঝড়গুলির বেশ কয়েকটি রেকর্ড ভেঙে ফেলবে আমফান। স্থলভূমিতে আঘাত হানবে বুধবার দুপুর নাগাদ। বাংলাদেশের হাতিয়া দ্বীপ ও পশ্চিমবঙ্গে দিঘার মাঝেমাঝি কোনও একটি স্থানে আছড়ে পড়বে আমফান।
অতিমারি করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করার মধ্যেই আবার প্রাকৃতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে রাজ্য ও কেন্দ্রকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজেই সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, কোভিড, পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি পৌঁছনো এবং ঘূর্ণিঝড়, তিনটে ইমার্জেন্সি বিষয়। দেখা যাক কে শক্তিশালী! গোটা পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার সম্ভাব্য সব রকম ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার বৃষ্টি বা ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে সব জেলাতেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) ডিজি-র সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
দিঘার মতো নামখানা, বকখালি, সাগর, পাথরপ্রতিমা ও কাকদ্বীপের উপকূলবর্তী এলাকায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে চলছে মাইকিং। সমস্ত ফ্লাড সেন্টার ও স্কুলগুলিকে ত্রাণশিবির হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিচ্ছিন্ন ঘোড়ামারা দ্বীপ থেকে মানুষজনকে মূল সাগর ভূখণ্ডে সরিয়ে নিয়ে আসার কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়াও কাকদ্বীপ, সাগর, পাথরপ্রতিমা ও নামখানা ব্লকের প্রত্যন্ত উপকূল এলাকার মানুষজনকেও বিপদের আশঙ্কায় নিরাপদ দূরত্বে ফ্লাড সেন্টার এবং স্কুলবাড়িগুলিতে সরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে। তাঁদের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ ত্রাণসামগ্রীও মজুত করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে। সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে উপকূলরক্ষী বাহিনীকেও।

ধারাবাহিকভাবে পাশে থাকার জন্য The Bengal Story র পাঠকদের ধন্যবাদ। আমরা যে ধরনের খবর করি, তা আরও ভালোভাবে করতে আপনাদের সাহায্য আমাদের উৎসাহিত করবে।

Login Support us