অর্জুনের দলত্যাগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল। ভাটপাড়ার বিধায়কের দল ছাড়ায় কোনও সমস্যা হবে না বলে সাফ জানাচ্ছে তৃণমূল শিবির। এমনকী মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায়ও বৃহস্পতিবার অর্জুনের বিজেপিতে যোগদানের পর জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই আছেন বারাকপুরের মানুষ।
বৃহস্পতিবার দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে মুকুল রায় ও কৈলাস বিজয়বর্গীয়র উপস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দেন ভাটপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিংহ। তৃণমূলের অন্দরে গুঞ্জন, আসন্ন লোকসভা ভোটে বারাকপুর কেন্দ্র থেকে ঘাসফুল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন অর্জুন। কিন্তু প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হলে দেখা যায়, বারাকপুর আসনে প্রার্থী বদল করেনি দল। দীনেশ ত্রিবেদীকেই প্রার্থী করা হয়। তখনই অর্জুন সিংহের দল বদল নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন অর্জুন নিজেও। তারপর একদা ঘোর বিরোধী বলে পরিচিত মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে যোগদান। পাশাপাশি, অর্জুনের অনুগামী বলে পরিচিত আরও কয়েকজন তৃণমূল নেতাও বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
দলের কয়েকজন নেতা যে লোকসভায় টিকিট প্রত্যাশী ছিলেন তা প্রার্থী তালিকা ঘোষণার দিনই স্বীকার করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের মধ্যে যাঁরা টিকিট পাননি, তাঁরা চাইলে অন্য দলে যোগ দিতে পারেন, সেকথাও সাংবাদিক বৈঠকে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন মমতা। যাঁরা ব্যক্তিস্বার্থে দল ছাড়ছেন তাদের দিয়ে তৃণমূলের কোনও ক্ষতি করা বিজেপির পক্ষে সম্ভব নয় বলেই মনে করছে তৃণমূল শিবির। দুর্নীতি কিংবা সিবিআইয়ের মত এজেন্সির হাত থেকে বাঁচতেও অনেকে দল ছাড়ছেন বলে তৃণমূল সূত্রে খবর। রাজ্যের শাসক দল অবশ্য তা নিয়ে বিশেষ চিন্তিত নয়। তৃণমূলের দাবি, যাঁরা নীতি আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়ে দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন, তাঁরা তৃণমূলের জন্য কখনওই বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারবেন না। বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের কাজের সঙ্গেই আছেন বলে দাবি তাঁদের।
খানিকটা একই সুর রাজ্যের বাম মহলেও। সিপিএমেরও বিধায়ক খগেন মুর্মু সদ্য যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। তবে রাজ্যের সিপিএম নেতৃত্বের বক্তব্য, তাঁদের মূল লড়াই তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে। তাই তৃণমূলের নীতির বিরোধিতা করে সেই দল থেকে কেউ বিজেপিতে গেলেও কাজের কাজ কিছুই হবে না। বরং এতে তৃণমূল ও বিজেপি যে একই মুদ্রার দুটো পিঠ, তা মানুষের কাছে আরও পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে মনে করছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।

You may also like