হবিবপুরের বিজেপি বিধায়ক জোয়েল মুর্মুর ‘জয় শ্রীরাম’ এর পাল্টা ইদ্রিশ আলির ‘জয় হিন্দ’, এবার বিধানসভায় স্লোগান-যুদ্ধ

মঙ্গলবার লোকসভায় শপথ অনুষ্ঠানে একের পর এক বিজেপি সাংসদ ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান তোলেন। তৃণমূল সাংসদরাও ‘জয় হিন্দ’ ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় মা কালী’ ধ্বনি তুলে মুখরিত করে তোলেন লোকসভা কক্ষ। এবার নজিরবিহীনভাবে রাজ্য বিধানসভায়ও ঢুকে পড়ল স্লোগান যুদ্ধ। বুধবার বিজেপি ও তৃণমূলের স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিধানসভা। দু’দলের বিধায়কদের এমন আচরণের তীব্র সমালোচনা বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
লোকসভা ভোটের সময় এ রাজ্যের ৮ টি বিধানসভায় উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, এরমধ্যে ৪ টি আসনে জয়ী হয় বিজেপি, ৩ টি তৃণমূল এবং ১ টি আসনে জয় পায় কংগ্রেস। বুধবার শপথ নেন এই ৮ বিধায়ক। সেখানে মালদহের হবিবপুরের বিজেপি বিধায়ক জোয়েল মুর্মু শপথবাক্য পাঠের পর ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেন। তাঁকে সমর্থন করে বাকি বিজেপি বিধায়করাও স্লোগান দিতে শুরু করেন। পাল্টা উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দ্রে জয়ী তৃণমূল প্রার্থী ইদ্রিশ আলি শপথগ্রহণের পর ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান তোলেন। দু’দলের স্লোগান-যুদ্ধে সরগরম হয়ে ওঠে বিধানসভা কক্ষ।  দ্রুত তাতে হস্তক্ষেপ করেন স্পিকার। তিনি জানান, কোনও বিধায়ক বিধানসভা কক্ষে স্লোগান দিতে পারেন না। বিধায়কদের শপথ পাঠের বাইরে আর কোনও বাক্য ব্যবহার করতে বারণ করে দেন তিনি। বিধানসভার রেকর্ড থেকে সমস্ত স্লোগান বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।
লোকসভা ভোটের আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণায় মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের সামনে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিয়ে মমতার ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন কয়েকজন। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয় ভাটপাড়াতেও। এই প্রেক্ষিতে বিজেপির ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনির মোকাবিলায় ‘জয় হিন্দ’ ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান চালু করে তৃণমূল। কিন্তু যেভাবে লোকসভা ও বিধানসভার শপথগ্রহণ পর্বেও এই স্লোগান দেওয়া শুরু হয়েছে, তার তীব্র সমালোচনা শুরু রাজ্যে।

Comments are closed.