সোনাগাছির যৌন-কর্মীদের এলাকা পরিদর্শনে কলকাতায় এল বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল।

কলকাতায় যৌন-কর্মীদের এলাকা সোনাগাছিতে মহিলারা এবং তাঁদের পরিবার কীভাবে আছেন, তাঁদের সন্তানরা কীভাবে বড় হচ্ছে তা দেখতে এরাজ্যে এল বাংলাদেশের এক প্রতিনিধি দল। প্রতিবেশী দেশের দুই সদস্যের এক প্রতিনিধি দল সোমবার সোনাগাছিতে যান। সেখানে যৌন-কর্মীদের নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দুর্বারের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা বলেন তাঁরা। বাংলাদেশের এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন সে দেশের ডিরেক্টর হেলথ ডাঃ জাহাঙ্গীর হোসেন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কেয়ার-জিসকে প্রধান রুমানা আহমেদ। সোনাগাছির যৌন-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। ঘুরে দেখেন দুর্বারের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ। ডিরেক্টর হেলথ ডাঃ জাহাঙ্গীর হোসেন জানালেন, ঢাকাতেও তাঁরা গড়ে তুলেছেন যৌন-কর্মীদের জন্য একটি সংস্থা ‘দুর্জয়’। তাতে প্রায় ১০ হাজার সদস্য রয়েছেন। তবে দুর্বার যেভাবে ২৫ বছর ধরে যৌনকর্মীদের এক ছাতার তলায় এনে কাজ করে চলেছেন তা দেখার জন্যই তাঁদের কলকাতায় আসা।
যৌন-কর্মীদের অধিকার, আর্থিক নিরাপত্তা, তাঁদের অকারণ হয়রানির হাত থেকে রক্ষা, সন্তানদের শিক্ষাসহ নানা বিষয়কে সামনে রেখে ১৯৯২ সালে তৈরি হয় দুর্বার। এছাড়াও যৌন-কর্মীদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ের ওপরে কাজ করে চলেছে তারা। পাশাপাশি এইচআইভি বা এইডস প্রতিরোধ নিয়েও যৌন-কর্মীদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলার কাজ করে চলেছে দুর্বার। বাংলাদেশে কেয়ার- জিএসকে প্রকল্পে স্বাস্থ্য বিষয়ক দিকটি দেখেন রুমানা আহমেদ। তিনি জানালেন, এইচআইভি প্রতিহত করার জন্য কাজ করছেন তাঁরা। তবে তাঁদের দেশে সিরিঞ্জের মাধ্যমে মাদক নেওয়ার সমস্যা দিনের পর দিন প্রকট হয়ে উঠছে। মাদকাসক্ত যুবকেরাই আবার বিভিন্ন যৌন-পল্লিতে যাচ্ছেন, এর ফলে বেড়ে চলেছে এইডস এবং সার্ভাইভাল ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করে চেষ্টা চলছে সচেতনতা বাড়ানোর। দুর্বারের পক্ষে প্রতিম রায় জানালেন, এই ধরনের মত বিনিময়কে তাঁরা স্বাগত জানাচ্ছেন। এর আগে দুর্বারের প্রতিনিধিরাও ঢাকা গিয়েছিলেন। এবার ঢাকার প্রতিনিধিরা কলকাতায় এলেন। এর ফলে যৌন-কর্মীদের অধিকার প্রাপ্তির লড়াই আরও বেশি সুরক্ষিত হবে।

Comments
Loading...