১০ ই সেপ্টেম্বর কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বিরোধী কংগ্রেসের ভারত বনধের ডাক বাংলায় কার্যত সিপিএমের শক্তি পরীক্ষার ময়দানে পর্যবসিত হতে চলেছে। ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী একের পর এক ভোটে ফলাফলের নিরিখে রাজ্যে বিরোধী দল হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপি, ক্রমেই পিছু হঠেছে বামেরা। সম্প্রতি পঞ্চায়েত ভোটেও বিজেপি বিভিন্ন জেলায় বামেদের থেকে অনেকটাই ভালো করেছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস সোমবার বনধের দিন রাজ্যকে সচল রাখার যে ডাক দিয়েছে, তা লোকসভা ভোটের আগে সংগঠনের শক্তি পরীক্ষার একটা সুযোগ এনে দিয়েছে বামেদের সামনে।
পেট্রল-ডিজেলের লাগামছাড়া দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার কংগ্রেসসহ বিরোধীরা ভারত বনধের ডাক দিয়েছে। আর এই ভারত বনধ নিয়েই সুর চড়ছে বাংলার শাসক এবং বিরোধী দল বামেদের মধ্যে। কংগ্রেস মূলত ভারত বনধের ডাক দিলেও, সোমবার সারা দেশে হরতালের ডাক দিয়েছে সিপিএমসহ বামেরা। রাজ্যে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস পেট্রপণ্যের দাম বৃদ্ধির ইস্যুতে কংগ্রেসের ভারত বনধকে নৈতিক সমর্থন জানালেও, রাজ্য সচল রাখার ডাক দিয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি কর্মচারিরা অফিসে না এলে তাঁদের বেতন কাটা হবে।
২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই বারবার বনধ, ধর্মঘটের বিরোধিতা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকার গড়ার পর গত সাত বছরে তৃণমূল একবারও বনধ ডাকেনি। মাঝে বামেরা নানা ইস্যুতে একাধিক ধর্মঘট ডাকলেও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তার তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। এবারও কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বিরোধী কংগ্রেসের ভারত বনধ, বাংলায় কার্যত রাজ্য সরকার বনাম সিপিএমের লড়াইয়ের মহড়া হতে চলেছে। সোমবারের দেশব্যাপী হরতালকে বাংলায় সর্বাত্মক করতে ডাক দিয়েছেন রাজ্যের সিপিএম নেতৃত্ব। সিপিএম নেতৃত্বও বুঝতে পারছেন, বাংলায় তাঁদের ডাকা হরতাল সম্মানজনক চেহারা নিলে তা আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে দলের নিচুতলার কর্মী-সমর্থকদের বাড়তি অক্সিজেন দেবে। হরতালকে কেন্দ্র করে দলের সংগঠনের একটা মূল্যায়নও করে নেওয়া যাবে। যদিও রাজ্য প্রশাসন এবং শাসক দল তৃণমূল যেভাবে হরতালের বিরোধিতা করেছে, তাতে তাকে সর্বাত্মক সফল চেহারা দেওয়া যে যথেষ্টই কঠিন তা সিপিএম নেতৃত্বও বুঝতে পারছেন।