অশান্তি অব্যাহত ভাটপাড়ায়, বিজেপির দল ফিরতেই ফের উত্তপ্ত এলাকা, পুলিশ-জনতা খণ্ডযুদ্ধ, আমডাঙায় মৃত ১

তিনদিন কেটে গিয়েছে কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নাম নেই বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের ভাটপাড়া, কাঁকিনাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায়। শনিবারও থমথমে এলাকা, বিপর্যস্ত জনজীবন। বিজেপির প্রতিনিধি দল ফিরতে ফের শুরু জনতা-পুলিশ খণ্ডযুদ্ধ। এদিকে বারাকপুর কেন্দ্রের অন্তর্গত আমডাঙায় এক বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। শনিবার মৃত কর্মীর বাড়িতে যান সাংসদ অর্জুন সিংহ।

পুলিশে অভিযোগ জানিয়ে কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ ভাটপাড়ার বাসিন্দাদের একাংশের। বিজেপি সংসদীয় দল এলাকা ছাড়ার পর দফায় দফায় পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট, পাথর ছোঁড়া হয়। পুলিশের পাল্টা লাঠি চার্জে মাথা ফাটে ১ বিজেপি কর্মীর, আহত হন আরও একজন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিজে পথে নামেন পুলিশ কমিশনার মনোজ কুমার ভার্মা।
বিজেপির প্রতিনিধি দল ছাড়াও বাম ও কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দলও ভাটপাড়ায় গিয়ে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চায়। কিন্তু বিক্ষোভের মুখে ফিরতে হয় সিপিএম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী, কংগ্রেস বিধায়ক আব্দুল মান্নানদের। এরপরই এলাকায় পৌঁছয় সাংসদ সুরিন্দর সিংহ আলুওয়ালিয়ার নেতৃত্বে বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা।আলুওয়ালিয়ার অভিযোগ, পুলিশের গুলিতেই মৃত্যু হয়েছে রামবাবু সাউ ও ধরমবীর সাউয়ের। মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি, ধরমবীর সাউয়ের সন্তানদের পড়াশোনার দায়িত্ব নেবেন বারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিংহ, ঘোষণা আলুওয়ালিয়ার। ভাটপাড়ার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে রিপোর্ট দেবে বিজেপির প্রতিনিধি দল। অন্যদিকে, তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ, বিজেপির ইন্ধনে ফের উত্তপ্ত হচ্ছে ভাটপাড়া।

অন্যদিকে উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙার বহিছগাছিতে বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। যদিও পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ব্যক্তিগত শত্রুতায় খুন হয়েছেন ওই যুবক।
সূত্রের খবর, একসময় সিপিএমের সক্রিয় কর্মী ছিলেন নাজিমুল করিম নামে ওই যুবক। লোকসভা ভোটের আগে বিজেপিতে যোগ দেন। অভিযোগ, তারপর থেকেই তৃণমূলের হুমকির মুখে পড়ছিলেন তিনি। জানা গিয়েছে, শুক্রবার সন্ধেয় ওষুধ কিনতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন নাজিমুল। অভিযোগ, সেই সময় তাঁকে বেধড়ক মারধর করে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় নাজিমুল করিমকে বারাসাত হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ঘটনার পর থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে, এফআইআর নিতে অস্বীকার করে পুলিশ। পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করে উত্তেজিত জনতা। শনিবার মৃত নাজিমুলের বাড়িতে যান এলাকার বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংহ।

Comments are closed.