সরকার গড়লে বুলেট ট্রেন প্রকল্প থেকে হাত গুটিয়ে নেবে শিবসেনা-এনসিপি-কংগ্রেস, বলছে এনডিটিভি

মহারাষ্ট্রে শিবসেনা-এনসিপি-কংগ্রেস জোটের সরকার গড়ার কাজ প্রায় চূড়ান্ত। সরকার গড়তে না গড়তেই তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিবসেনা-এনসিপি-কংগ্রেস। সংবাদমাধ্যম এনডি টিভি সূত্রের খবর, শিবসেনা, এনসিপি ও কংগ্রেস জোট ক্ষমতায় এলে প্রত্যাহার করা হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের বুলেট ট্রেন প্রকল্প! এমনটাই জানিয়েছেন তিন দলের নেতারা।
কংগ্রেস সূত্র মারফৎ এনডিটিভি জানিয়েছে, গুজরাতের আহমেদাবাদ থেকে মহারাষ্ট্রের মুম্বই, দেশের প্রথম বুলেট ট্রেনের প্রকল্পে রাশ টানবে উদ্ধব-শরদ-সনিয়ার দল। কংগ্রেস ও এনসিপির সমর্থনে শিবসেনা সরকার গড়লে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার বুলেট ট্রেন প্রকল্পে মহারাষ্ট্রের শেয়ার প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। কংগ্রেসের এক বিশ্বস্ত সূত্র এনডিটিভি-কে জানিয়েছে, তাদের পাশে রয়েছেন মহারাষ্ট্রের কৃষক ও সমাজকর্মীরা। প্রসঙ্গত, মোদীর বুলেট ট্রেন প্রকল্পে আহমেদাবাদ থেকে মুম্বই, বিস্তৃত পথে প্রচুর সংখ্যক বৃক্ষ নিধন হয়েছে, যা নিয়ে সরব হয়েছেন কৃষক ও সমাজকর্মীরা।
শরদ পাওয়ারের এনসিপি-র এক নেতা সংবাদ সংস্থা আইএএনএস -কে জানান, আহমেদাবাদ-মুম্বই বুলেট ট্রেন প্রকল্প নিয়ে মহারাষ্ট্রের জোট সরকারের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে গত সপ্তাহে বিষদে আলোচনা হয় তিন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে। ওই এনসিপি নেতার কথায়, কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১.০৮ লক্ষ কোটির বুলেট ট্রেনের প্রকল্পে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা মহারাষ্ট্র সরকারকে বহন করতে হবে। তিন দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মহারাষ্ট্রে যদি তারা সরকার গড়ে, তাহলে কেন্দ্রকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হবে, বুলেট ট্রেন প্রকল্পে কানাকড়ি খরচ করতে রাজি নয় মহারাষ্ট্র সরকার। ওই টাকা মহারাষ্ট্রের অন্যান্য জনমুখী প্রকল্পে খরচ করা হবে।
২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে আহমেদাবাদে যৌথভাবে বুলেট ট্রেন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এই প্রকল্পে ন্যূনতম ০.১ শতাংশ সুদে ভারতকে ৮৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে জাপান। আহমেদাবাদ থেকে মুম্বই পর্যন্ত ৫০৮ কিলোমিটার দূরত্বে এই বুলেট ট্রেনের প্রকল্প ২০২৩ সালের মধ্যে শেষ হবে বলে জানায় কেন্দ্র। এই প্রকল্প রূপায়ণের দায়িত্ব থাকা ন্যশনাল হাই স্পিড রেলওয়ে কর্পোরেশন (এনএইচএসআরসিএল) এখনও পর্যন্ত ৪৮ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করেছে। বিভিন্ন কাজের জন্য টেন্ডার দেওয়া চলছে। এই পর্যায়ে এসে মহারাষ্ট্রের হবু সরকার জানাচ্ছে, এই প্রকল্পের আর্থিক দায়িত্ব নিতে তারা অপারগ।

Comments
Loading...