মুখ্যমন্ত্রী: করোনা সহজে যাবে না, রেড জোনকে ৩ ভাগে ভাগ করে স্বাভাবিক করতে হবে পরিস্থিতি, বুধবার থেকে রাজ্যে কিছু ছাড়

করোনা এত সহজে যাবে না। স্বল্প, মাঝারি ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা করে এই সংক্রমণের মোকাবিলা করে পরিস্থিতি আস্তে-আস্তে স্বাভাবিক করতে হবে, মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। মমতা ব্যানার্জি বলেন, রেড জোনকে তিনভাগে ভাগ করা হবে। পুলিশ প্রশাসন আগামী তিন দিনের মধ্যে এই এলাকা শনাক্তকরণের কাজ করবে। তারপর সেই এলাকাগুলিতে আলাদা আলাদা পরিষেবাকে ছাড় দেওয়া হবে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের পুলিশ সুপার এবং জেলা প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১০০ দিনের কাজ দ্রুত ভালোভাবে শুরু করার জন্য জেলা শাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, ছোট ও মাঝারি শিল্পে নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মী দিয়ে কাজ শুরু করতে চাইছে রাজ্য সরকার। এছাড়া ৫০ শতাংশ কর্মী নিয়ে বিড়ি শিল্পে কাজ শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের একাধিক জেলায় লক্ষ-লক্ষ পুরুষ মহিলা বিড়ি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কারও রেশন কার্ড না থাকলেও তাঁকে আপাতত রেশন দিতে হবে।
সোমবারই প্রধানমন্ত্রী দেশের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেছিলেন। সেই কথা উল্লেখ করে মমতা ব্যানার্জি বলেন, প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, এত সহজে করোনা পুরোপুরি কমবে না। এর সঙ্গে মানিয়ে নিয়েই আস্তে-আস্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, লকডাউন আপাতত চলবে। কিন্তু আস্তে-আস্তে অনেক পরিষেবা ও কাজে ছাড় দিতে হবে। কারণ, কৃষি, শিল্প সহ পুরো অর্থনীতি বসে গিয়েছে। তাকে ধীরে ধীরে সচল করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে নির্মাণ কার্য, ফুল চাষ, কৃষি, পূর্ত দফতরের কাজ, পরিবহণ। রাজ্যের মধ্যে আস্তে-আস্তে পরিবহণ ব্যবস্থা চালু করা হবে। কোন এলাকায় কোন দোকান খোলা হবে তা স্থানীয়ভাবে পুলিশ, প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে কোভিডের বিরুদ্ধে লড়তে হবে। এরপরই নাম না করে বিজেপির উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্বাচনের এখনও এক বছরের বেশি দেরি আছে। এত অধৈর্য হলে চলবে? বিজেপি নেতাদের মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, এত তাড়াতাড়ি ফেক নিউজ ছড়াতে হবে? রাজ্যের বদনাম ছড়াতে হবে? মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে হবে? মমতা ব্যানার্জি বলেন, রাজনীতি করার অনেক সময় আছে। এখন প্রধান কাজ লোকের কাছে খাদ্য, চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়া।

Comments
Loading...