আগামী লোকসভা নির্বাচনে পাহাড়কে পাখির চোখ করছে তৃণমূল। যে মোর্চার সমর্থনে পরপর দু’বার বিজেপি দার্জিলিং লোকসভা আসন জিতেছে, তা জিততে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবি তোলা বিমল গুরুংও পাহাড়ছাড়া। বিনয় তামাংসহ মোর্চার বহু প্রথম সারির নেতাই এখন সরাসরি তৃণমুলে। এই অবস্থায় পাহাড়ে মোর্চা-বিজেপির যৌথ শক্তিকে কোণঠাসা করতে বদ্ধপরিকর তৃণমূল।
নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মদিন উপলক্ষ্যে বুধবার দার্জিলিং ম্যালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন মোর্চার একাধিক নেতা। আসন্ন লোকসভায় তৃণমূলকেই যে সমর্থন করবেন তাঁরা, তা মঙ্গলবারই গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিনয় তামাং জানিয়েছিলেন।
নেতাজির জন্মদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জিটিএ নেতা বিনয় তামাংয়ের উপস্থিতিতে পাহাড়কে ঢেলে সাজানোর ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। নাম না করে বিজেপিকে আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নেতা তাঁরাই হন যাঁরা সবাইকে নিয়ে চলেন। দেশকে ভাগ করতে চাইছে যারা তারা কখনও দেশের নেতা হতে পারে না। যারা এক জনের সঙ্গে আর একজনের বিভেদ তৈরি করে তারা কখনও নেতা হতে পারে না। নাম না করে বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, ভোট এলেই কাজের প্রতিশ্রুতি দেয় ওরা। তারপর আর দেখা পাওয়া যায় না।
দার্জিলিংয়ে দাঁড়িয়ে তাঁর অভিযোগ, পাহাড়ের জনজাতির উন্নতির জন্য কোনও পদক্ষেপ করেনি কেন্দ্র। মমতার প্রতিশ্রুতি, লোকসভা নির্বাচনের পরই এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন তিনি।
পাশাপাশি, মমতার অভিযোগ, নেতাজির জন্মদিনে রাজ্য সরকার ছুটি ঘোষণা করলেও, দেশনায়ককে সম্মান জানিয়ে কেন্দ্র ছুটি ঘোষণা করেনি। তাঁর আরও অভিযোগ, নেতাজিকে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে কখনও স্বীকৃতি দেয়নি কেন্দ্র। তবে এদিন দার্জিলিংয়ের কর্মসূচি থেকেই কার্যত পাহাড়ে লোকসভা নির্বাচনের সুর বেঁধে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন: লকডাউনের মধ্যে কর্মরত সরকারি বাসের চালক ও কর্মীদের বিশেষ পোশাক দিচ্ছে পরিবহণ দফতর




