সব দ্বিধা দ্বন্দ্ব কাটিয়ে অবশেষে সিপিএম এবং কংগ্রেস বিধানসভার উপনির্বাচনে জোট বেঁধে লড়াই করছে। ২০১৪ সালের লোকসভা কিংবা ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে বাম-কংগ্রেসের সমঝোতা শেষ পর্যন্ত দানা বাঁধেনি। যৌথ প্রচারও কোথাও হয়নি। কিন্তু এই উপনির্বাচনে দুই দলই সমঝোতার ব্যাপারে একেবারে মরিয়া ছিল। ফলে এবার তারা জোট করেই লড়াই করছে। পাশাপাশি যৌথ প্রচারও চালাবে তারা। বুধবার থেকে কালিয়াগঞ্জ, করিমপুর এবং খড়্গপুরে শুরু হচ্ছে দুই দলের মিলিত প্রচার। বুধবার করিমপুরে সভা করবেন কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা অধীর চৌধুরী এবং সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম। ১৭ নভেম্বর খড়্গপুরে যৌথ সভা করার কথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র এবং বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীর। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান এবং সিপিএম নেতা সুজন করিমপুরে সভা করবেন ২১ নভেম্বর। তার আগে মান্নান কালিয়াগঞ্জ যাবেন ১৬ নভেম্বর। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্রও তিন কেন্দ্রেই প্রচার চালাবেন। তবে তাঁর সফরসূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
লোকসভা ভোট এবং মহারাষ্ট্র, হরিয়ানার বিধানসভার ভোটের ফল বাম এবং কংগ্রেস, এই দুই পক্ষকেই এক অবস্থানে এনে ফেলেছে। বাম এবং কংগ্রেস নেতারা বুঝতে পেরেছেন, বিজেপি আর তৃণমূলকে ঠেকাতে তাঁদের জোট করাটা জরুরি। তাঁরা এটাও বুঝেছেন, শুধু ভোটের সময় জোট নয়, এখন থেকে দুই পক্ষকেই নূন্যতম সাধারণ কর্মসূচির ভিত্তিতে তাদের রাস্তায় থাকতে হবে। সোমেন মিত্ররা সিপিএম নেতাদের চিঠি দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব ওই কর্মসূচি তৈরি করে আন্দোলনে নামার অনুরোধ করা হয়। তার আগে গান্ধী জয়ন্তীতে সোমেনের আমন্ত্রণে রাজ্যের শীর্ষ বাম নেতারা প্রদেশ কংগ্রেসের সদর দফতর বিধান ভবনে যান। সেখানেই অনেকটা সলতে পাকানোর কাজ হয়ে যায়। পরবর্তীকালে দুই পক্ষ বিধানসভার উপনির্বাচনে এক যোগে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেয়। ঠিক হয়, করিমপুরে লড়বে বামেরা। আর কালিয়াগঞ্জ এবং খড়্গপুরে প্রার্থী দেবে কংগ্রেস। শেষের দুটি আসন কংগ্রেসের হাতে ছিল বহুদিন। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা জ্ঞান সিং সোহন পাল খড়্গপুরে বিজেপির দিলীপ ঘোষের কাছে অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে যান।
এরই মাঝে আব্দুল মান্নান আবার কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীকে চিঠি পাঠিয়ে জানান, খড়্গপুরে কংগ্রেসের তেমন শক্তি নেই। তাই সেই আসনটি তৃণমূলকে ছেড়ে দেওয়া হোক। তা নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরে জল ঘোলা হয় বিস্তর। মান্নানের সঙ্গে সোমেনের দূরত্ব তৈরি হয়। সুত্রের খবর, মান্নান প্রচারে যেতে রাজি হচ্ছিলেন না। শেষ অবধি সোমেন তাঁকে রাজি করান। এই ভোটে যে কংগ্রেস-বাম জোট বিশাল কিছু একটা ফল করে ফেলবে, এমন দুরাশা অতি বড় বাম ও কংগ্রেস সমর্থকও আশা করেন না। দুই দলই দেখতে চায়, এই ভোটে তাদের ভোট শতাংশ বাড়ে কি না। লোকসভা ভোটে তাদের ভোট যে সাত শতাংশে নেমে গিয়েছিল, সেখান থেকে যদি কিছুটা হলেও ভোট বাড়ে, সেটাই তাদের লাভ।
মঙ্গলবার সোমেন বলেন, আমরা দুই দলই ভোট বাড়ানোর চেষ্টা করছি। মনে করি না, আমরা অবাক করার মতো কিছু করতে পারব। এই নির্বাচনে ভোট বাড়লে আমরা দুই পক্ষই কলকাতা-সহ যে সমস্ত পুরসভার ভোট আগামী বছর আছে, সেখানে এক সঙ্গে লড়াই করার জোর পাব। সোমেন জানান, তিনি তিনটি কেন্দ্রেই সভা করবেন।



