প্রতি ৫ জন করোনাজয়ীর একজন ভুগছেন মানসিক অসুখে! চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট অক্সফোর্ডের

করোনা কাটিয়ে উঠে ক্রমশ সুস্থ হয়ে উঠলেও মানসিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে বহু মানুষের। প্রতি ৫ জন করোনাজয়ীর মধ্যে একজন ভুগছেন মানসিক সমস্যায়। অ্যাংজাইটি, ডিপ্রেশন ও ইনসোমনিয়া করোনা থেকে সুস্থ হওয়া মানুষদের সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি বিখ্যাত ‘দ্য ল্যান্সেট-সাইকিয়াট্রি’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এমনই এক রিপোর্ট। তাতে প্রকাশিত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণাপত্র বলছে, করোনামুক্তির পর প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে এক জনের গুরুতর মানসিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। মার্কিন মুলুকের ৬২ হাজার করোনাজয়ীর তথ্য ঘেঁটে অক্সফোর্ডের মনোরোগ বিভাগের বিশেষজ্ঞরা দেখেছেন, প্রায় ২০ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে করোনা থেকে সেরে ওঠার ১৪-৯০ দিনের মধ্যেই বিভিন্ন মানসিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাঁদের দাবি, করোনা থেকে সুস্থ হওয়া রোগীদের মধ্যে দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, অনিদ্রা ছাড়াও স্মৃতিভ্রংশের আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে!
কিন্তু করোনার সঙ্গে মানসিক সমস্যার যোগসূত্র কোথায়?
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, করোনার অজানা পরিণাম ও মৃত্যুভয়ের পাশাপাশি রয়েছে আর্থ-সামাজিক টানাপোড়েন। নিজের এবং পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে চিন্তার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে কর্মসংস্থানের হাল ইত্যাদিও মানুষকে দুশ্চিন্তায় রাখছে। আর যাঁদের করোনা হচ্ছে এবং তা থেকে সেরে উঠছেন, তাঁদের মধ্যে এই চিন্তা আরও বেশি। তার উপর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর উপর পড়ছে করোনাভাইরাসের প্রত্যক্ষ নিউরো-সাইকিয়াট্রিক প্রভাবও। ফলে, অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার, প্যানিক অ্যাটাক, পিটিএসডি দেখা যাচ্ছে সব বয়সের করোনাজয়ী মানুষদের মধ্যে। বয়স্ক কোভিডজয়ীদের মধ্যে এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে স্মৃতিভ্রংশ, বিভ্রম ও মানসিক বিভ্রান্তির মতো গুরুতর অসুখ। সব মিলিয়ে, মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ।
আমেরিকার মতো ভারতে এ রকমের সমীক্ষা না হলেও এমন রোগীর সংখ্যা এ দেশেও কম নিয়ে বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ইউরোপের চেয়ে ভারতীয়দের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা কম। তাই এখানে করোনা থেকে সেরে ওঠার পরেও প্যানিক অ্যাটাক, পিটিএসডি, মানসিক বিভ্রান্তি কিংবা অবসাদের নজির পশ্চিমের দেশগুলোর তুলনায় ঢের বেশি। আর্থ-সামাজিক ভাবে এ দেশের মানুষের অবস্থানও একটা বড় কারণ। তাই করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার পর অন্তত কয়েক মাস মনরোগ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Comments
Loading...