মহারাষ্ট্রে সরকার গড়া নিয়ে নাটক অব্যাহত। বিজেপি ও শিবসেনা কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার হুমকি দিয়েছে। পাল্টা তোপ দেগে শিবসেনা বলছে, রাষ্ট্রপতি কি বিজেপির পকেটে থাকেন? এরই মধ্যে আবার সোমবার কংগ্রেস সভাপতি সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে দিল্লি যাচ্ছেন এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ার। সূত্রের খবর, দু’দিন আগেই শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে পাওয়ারের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন। যদিও পাওয়ার ওই বৈঠকের কথা অস্বীকার করেন। পাওয়ারের দিল্লি যাত্রা নিয়ে মহা রাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি শিবসেনা, এনসিপি, কংগ্রেস মিলেমিশে সরকার গড়ার পথে হাঁটবে? তবে পাওয়ার এই প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি শুধু বলেন, বিজেপি ও শিবসেনা ছাড়াও দুই রাজনৈতিক দলের নেতা অন্য অনেক বিষয় নিয়েই কথা বলতে পারেন। শিবসেনা গত কয়েকদিন ধরেই ইঙ্গিত দিয়ে চলেছে, বিজেপি যদি তাদের শর্তে রাজি না হয়, তাহলে তারা বিকল্প পথের কথা ভাববে। সেই বিকল্প কি এনসিপি ও কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না বাইরে থেকে কংগ্রেসের সমর্থনে সরকার গড়া? তা নিয়েও নানা মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও পাওয়ার প্রথম থেকেই বলে আসছেন, তাঁরা বিরোধী আসনে বসতে চান। কংগ্রেসেও শিবসেনার সঙ্গে সরকার গড়ার ব্যাপারে মতবিরোধ রয়েছে। একপক্ষ শিবসেনার সঙ্গে সরকার গড়ার পক্ষপাতী, অন্যপক্ষ সরকারে যেতে চায় না। সনিয়া নিজেও মহারাষ্ট্রে শিবসেনার সঙ্গে সরকারে সামিল হতে রাজি নন। রাজনৈতিক মহল অবশ্য বলছে, রাজনীতিতে কোনও কিছুই অসম্ভব নয়।
এদিকে ৭ নভেম্বরের মধ্যে মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন করতেই হবে। কারণ, আগের সরকার মেয়াদ তার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
শুক্রবার বিজেপির নেতা এবং রাজ্যের অর্থমন্ত্রী সুধীর মুঙ্গানতিওয়ার মন্তব্য করেন, ৭ নভেম্বরের মধ্যে হয় বিজেপি সরকার গড়বে, না হলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে মহারাষ্ট্রে। জবাবে শিবসেনার মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত শনিবার বলেন, মহারাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসনের হুমকি দিয়ে কার্যত রাষ্ট্রপতির পদকেই অপমান করছে বিজেপি। শিবসেনার মুখপত্র ‘সামনা’র সম্পাদকীয় বিভাগে শনিবারই লেখা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি কি বিজেপির পকেটে থাকেন? ওই মুখপত্রে নিয়মিতই বিজেপিকে নানাভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে।
সোমবার দিল্লিতে সনিয়া-পাওয়ার বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়, তার দিকে তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল। তবে বিজেপি আর শিবসেনা জেদাজেদি যে পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে, তাতে পরিস্থিতি যথেষ্টই জটিল হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ত্রিপুরা নিয়ে আলোচনায় রাজি অমিত শাহ, বিকেল ৪ টায় সময় দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী




