বুধবার দিল্লি আদালত এক যুগান্তকারী রায় দিল। দিল্লি আদালতের তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত মুখ্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রবীন্দ্রকুমার পান্ডে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এম জে আকবরের করা মানহানির মামলায় বেকসুর খালাস পেল সাংবাদিক প্রিয়া রামানি। বিচারপতি তাঁর রায় জানানোর পর, নারী জাতিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “একজন মহিলা প্রয়োজনে কয়েক দশক পরেও নিজের অভিযোগ জানাতে পারেন।”
সালটা ২০১৭। আমেরিকার প্রযোজক হার্ভি ওয়াইনস্টাইনের বিরুদ্ধে একের পর এক যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠতে শুরু হয়। সেই প্রথমবার টুইটারে ট্রেন্ড হয় #MeToo এর। এরপর মার্কিন মুলুক থেকে প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়তে থাকে গোটা বিশ্বের দরবারে। সে ক্ষেত্রে বাদ যায়নি ভারতও। অকপটে নিজের ওপর হওয়া অত্যাচারের কথা তুলে ধরার সাহস একজন মহিলারও রয়েছে, এমনটাই প্রমাণ করলেন সাংবাদিক প্রিয়া রামানি প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আকবরের বিরুদ্ধে #MeToo অর্থাৎ যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলে। একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রিয়া রামানি জানান, আজ থেকে ২৩ বছর আগে মুম্বাইয়ের এক বিলাসবহুল হোটেলে তিনি চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছিলেন। সেই হোটেলের বন্ধ ঘরে তাকে বিছানায় ডাকা হয়েছিল। গোটা প্রতিবেদনে তিনি কারণ নাম উল্লেখ করেননি। কিন্তু এক বছর পরে টুইট করে প্রিয়া দাবি জানান, একটি জাতীয় সংবাদপত্রের প্রাক্তন এডিটর এম জে আকবর তাঁর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতে চেয়েছিলেন এবং তাঁকে যৌন হেনস্তার করা হয়।
এমন একটি টুইটের সম্মুখে দাঁড়িয়ে ২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেন বাধ্য হন বিদেশ প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর। এবং সে বছরই প্রিয়া রামানির বিরুদ্ধে আদালতে মানহানির মামলা দায়ের করেন। আদালতে আকবরের অভিযোগ ছিল, খ্যাতি নষ্ট করতেই এমন একটি কুরুচিকর অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন: পরিবেশ বান্ধব ই-বাস পরিষেবায় বিশ্বে প্রথম তিনে কলকাতা, পিছনে লন্ডন, নিউইয়র্
তবে এদিন আকবরের অভিযোগ খারিজ করে বিচারক বলেন, “রামায়ণ, মহাভারতের মতো মহাকাব্যের দেশে এই ধরনের ঘটনা লজ্জাজনক। সুপ্রিম কোর্টে বিশাখা গাইডলাইন তৈরির আগে পর্যন্ত, সামাজিক লজ্জার কারণে যৌন হেনস্থার অভিযোগ জানানোর অবকাশই ছিল না। একজন নির্যাতিতার উপর যৌন হেনস্থার কী প্রভাব পড়তে পারে তা সমাজকে বুঝতে হবে।”




