দেশের কর্মসংস্থানের বেহাল দশা আগামী পাঁচ হাজার বছরেও মিটবে না। যদি না অর্থনৈতিক (Economy) ক্ষেত্রে বিপুল কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়। দেশের কর্ম বৃদ্ধির তথ্যের ভিত্তিতে এমনই এক প্রতিবেদন লেখা হয়েছে ইংরেজি নিউজপোর্টাল The Wire-এ। লিখেছেন ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ দীপঙ্কর বসু।
গত ১৩ জানুয়ারি প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও গবেষক মনে করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেকারত্বের সমস্যাকে সেভাবে বুঝতেই পারছে না  ভারত। অবস্থা এতটাই খারাপ যে শুধুমাত্র সরকারি তথ্য বা গবেষণায় তা স্পষ্ট হচ্ছে না।  তিনি লিখেছেন, ভারতের বেকারত্বের প্রকৃত সমস্যা সঠিক ভাবে নির্দেশ করা যাবে তখনই, যখন দেশের অর্থনীতির (Economy) সম্পূর্ণ কাঠামোগত পরিবর্তন করা হবে।
ওই অর্থনীতিবিদ তাঁর প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাঙ্কের একটি তথ্য তুলে ধরেছেন। যেখানে বলা হয়েছে, ১৯৯০ সালে ভারতের শ্রমশক্তি ছিল ৩১৭.১৮ মিলিয়ন। ২০১৯ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৫১৭.৪৯ মিলিয়ন। অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে ১.৬৯ শতাংশ করে ভারতের শ্রমশক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এই বিপুল পরিমাণ শ্রমশক্তির কর্মসংস্থানের জন্য চাই সুস্পষ্ট দিশা এবং বিপুল অর্থনৈতিক সংস্কার।
প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, বর্তমান ভারতীয় কর্মসংস্থানের আর একটি দিক হল ‘ইনফর্মাল এমপ্লয়েড’। ভারতের মোট চাকরিজীবীর মধ্যে একটা বিপুল সংখ্যক মানুষ কাজ করছেন কম বেতনে এবং নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে। তাঁদের চাকরির কোনও নিরাপত্তা নেই, নেই সামাজিক সুরক্ষা এবং যৎসামান্য অধিকার। দেশের মোট চাকরিজীবীর মধ্যে এই ‘ইনফর্মাল এমপ্লয়েড’ -এর সংখ্যাটা ৮৫ থেকে ৯৩ শতাংশ হতে পারে। এটাও দেশের অর্থনীতির (Economy) একটা ভয়ঙ্কর সমস্যা।
প্রতিবেদনে লেখক তাঁর পর্যবেক্ষণে বছর প্রতি ভারতের প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার দেখিয়েছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী যে হারে কর্মসংস্থান হচ্ছে, তার নিরিখে এই হার দেখানো হয়েছে। আর একদিকে দেখানো হয়েছে, শ্রমশক্তি অপরিবর্তনশীল হলে কর্মসংস্থানের হাল কী হতে পারে। তাতে দেখা যাচ্ছে, যদি একই হারে দেশের শ্রমশক্তি বাড়তে থাকে এবং কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয় তবে, আগামী ৫০ বছরে আধুনিক পুঁজিবাদে কর্মসংস্থানের হার বছর প্রতি ৪.৮ শতাংশ বাড়বে। যদি আগামী ১০০ বছরে এই আর্থিক সংস্কারের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়, তাতে কর্মসংস্থান বাড়বে ৩.২৩ শতাংশ হারে। একইভাবে যদি এ বছর থেকেই শ্রমশক্তির বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় (যা কার্যত অসম্ভব), তাহলেও আগামী ১০০ বছরে আধুনিক পুঁজিবাদে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার হবে ১.৫২ শতাংশ।
পাশাপাশি ইকনমিক সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৯১ সালে দেশের প্রাইভেট ও পাবলিক সেক্টরে কর্মীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৭.৬৮ মিলিয়ন এবং ১৯.০৬ মিলিয়ন। ২০১১ সালে তা দাঁড়িয়েছে ১১.৪২ মিলিয়ন এবং ১৭.৫৫ মিলিয়ন। যদি এই হারে দুই সেক্টরে কর্মসংস্থান হয় এবং শ্রমশক্তি বছর প্রতি এভাবেই বাড়তে থাকে তাহলে আগামী ৫,০০০ বছরেও ভারতের অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন শেষ হওয়া সম্ভব নয় বলে প্রতিবেদনে লিখেছেন অধ্যাপক দীপঙ্কর বসু।

ধারাবাহিকভাবে পাশে থাকার জন্য The Bengal Story র পাঠকদের ধন্যবাদ। আমরা শুরু করেছি সাবস্ক্রিপশন অফার। নিয়মিত আমাদের সমস্ত খবর এসএমএস এবং ই-মেইল এর মাধ্যমে পাওয়ার জন্য দয়া করে সাবস্ক্রাইব করুন। আমরা যে ধরনের খবর করি, তা আরও ভালোভাবে করতে আপনাদের সাহায্য আমাদের উৎসাহিত করবে।

Login Subscribe

You may also like