Take a fresh look at your lifestyle.

লোকসভা নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত রাখতে রাজনৈতিক পোস্ট এবং বিজ্ঞাপনী নীতিতে বদল আনছে ফেসবুক-গুগল

ভারতের লোকসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে তাদের বিজ্ঞাপন নীতিতে পরিবর্তন আনতে চলেছে ফেসবুক ও গুগল। সোমবার ফেসবুক ও গুগলের তরফে বম্বে হাইকোর্টে একথা জানান হল।
বম্বে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি ছিল সোমবার। লোকসভা ভোটের ৪৮ ঘন্টা আগে ফেসবুক, ট্যুইটার, ইউটিউব ইত্যাদি সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে না এবং এসম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা জারি করতে হবে, এই মর্মে জনস্বার্থ মামলার দায়ের করেছিলেন পুনের বাসিন্দা জনৈক সাগর সূর্যবংশী। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্য বিচারপতি নরেশ পাতিল ও বিচারপতি এন এম জমদারের এজলাসে ফেসবুক এবং গুগল সংস্থার তরফে একটি হলফনামা জমা দেওয়া হয়।
ওই হলফনামায় জানানো হয়, ভারতে লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন বিজ্ঞাপনী নীতি আনতে চলেছে ফেসবুক। বিশেষত নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে স্বচ্ছতা রাখতেই ফেসবুক সংস্থার এই উদ্যোগ বলে জানা গিয়েছে। আগামী ২১ শে ফেব্রুয়ারি থেকে এই নীতি চালু করা হবে বলে জানানো হয়েছে ওই হলফনামায়।
নয়া বিধি অনুসারে, ফেসবুকে কোনও রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন দিতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় জানাতে হবে সংস্থাকে। রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন বা ভিডিও’র আগে ‘ডিসক্লেমার’ রাখা হবে। অর্থাৎ, ওই রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের দায়িত্ব ফেসবুক কর্তৃপক্ষ নেবে না।
অন্যদিকে, গুগলের তরফে এক হলফনামায় জানানো হয়, গুগল নেটওয়ার্কে কোনও রাজনৈতিক প্রচার ও বিজ্ঞাপন দিতে হলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সংস্থা বা দলের কাছে নির্বাচন কমিশনের ছাড়পত্র থাকতে হবে। গুগল নেটওয়ার্কে ভারতের নির্বাচনী বিজ্ঞাপন কেবল ভারতীয় নাগরিকই দিতে পারবেন। এছাড়াও নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার জন্য রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনদাতার পরিচয় ও কত টাকা খরচ হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপনে তা গুগল নেটওয়ার্ক থেকে জেনে নিতে পারবেন নেটিজেনরা।
লোকসভা নির্বাচনের দু’দিন আগে থেকে কোনও রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে না, এই পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে গুগলের তরফে আদালতে জানানো হয়, ১৯৫১ রিপ্রেজেন্টেশন অব পিপল অ্যাক্ট অনুসারে নির্বাচনের ৪৮ ঘন্টা আগে টেলিভিশন ও অন্যান্য গণমাধ্যমে কোনও রাজনৈতিক প্রচার করা যাবে না, এই আইন আগেই রয়েছে। গুগলও এই আইন মানতে বাধ্য।
বিভিন্ন দেশের নির্বাচনের আগে সোশ্যাল মিডিয়াকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠছিল। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার কথা উঠে এসেছিল কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কাণ্ডে। এরকম অনৈতিক ঘটনা ঠেকাতে ও সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় ফেসবুক ও গুগলের এই নয়া বিধি-নিষেধ কাজ দেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Comments are closed.