ফেক নিউজ বা ভুয়ো খবর ছড়িয়ে রাজ্যে দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে ফের অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দুর্গা পুজোর সমন্বয় মিটিংয়ে গত বছর পুজোর বিসর্জন এবং মহরম একই সময় পড়ে যাওয়ার উদাহারণ টেনে মুখ্যমন্ত্রী নাম না করে সরাসরি আক্রমণ করেন বিজেপিকে। এমনকী কয়েকদিন আগে কলকাতার মেয়ো রোডের সমাবেশে বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ পর্যন্ত অভিযোগ করেছিলেন, মহরমের জন্য বিসর্জন বন্ধ করেছে তৃণমূল সরকার। এদিন কারও নাম উল্লেখ না করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রতি বছর শান্তিপূর্ণভাবে বাংলায় পুজো, মহরম একসাথে পালিত হয়। কিন্তু ফেক নিউজ ছড়িয়ে রাজ্যে দাঙ্গা বাধানোর ষড়যন্ত্র চলছে। যে যা খুশি খবর রটিয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, আগুন লাগানো খুব সহজ, কিন্তু আগুন নেভানো কঠিন। বাংলায় আমরা কাউকে আগুন নিয়ে খেলতে দেব না। ফেক নিউজের ব্যাপারে সতর্ক থাকার জন্য ক্লাবগুলোর কাছে আবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী।
গত দু’বছর পরপর দশমীর ঠিক একদিন পরেই মহরম পড়েছিল। একই দিনে বিসর্জন এবং মহরমের মিছিল যাতে না বেরোয় তার জন্য বিসর্জন একদিন পিছিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বিষয়কে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছিল বিতর্ক। বিসর্জন পিছিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের সমালোচনা করেছিল বিজেপি। এমনকী গত বছর এই সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে কয়েকজন হাইকোর্টে মামলাও করেন। সেই উদাহারণ টেনেই মুখ্যমন্ত্রী এদিন এক হাত নেন বিজেপিকে। নাম না করে বলেন, ফেক নিউজ বা ভুয়ো খবর ছড়িয়ে রাজ্যে দাঙ্গা লাগানোর চক্রান্ত চলছে। তা সরকার হতে দেবে না। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এবছর ১৯ শে অক্টোবর থেকে ২২ শে অক্টোবর পর্যন্ত বিসর্জন দেওয়া যাবে। ২৩ শে অক্টোবর প্রতি বছরের মতো রেড রোডে সেরা পুজোর কার্নিভাল হবে। কার্নিভালে পুজোর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় বাড়িয়ে এবার ৭৫ করা হবে বলে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সাম্প্রতিক অতীতে রাজ্যে একাধিক জায়গায় গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। যেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো এবং বিভ্রান্তিমূলক ছবি বা খবর ছড়ানোর জেরে এই সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। বসিরহাটের ক্ষেত্রে তো বটেই, অন্য বহু জায়গাতেও ফেক নিউজ এবং ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে নানা সময়। সুনির্দিষ্টভাবে প্রচুর মামলাও হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীও বারবার সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলেছেন পুলিশকে। এদিন পুজোর মিটিংয়ে সেই অভিযোগই ফের তুললেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি পুজো উদ্যোক্তা এবং ক্লাবগুলোর কাছে আবেদনও করেন, কেউ যেন টাকার বিনিময়ে বিক্রি না হয়ে যান।