দিন দিন করোনা সংক্রমণ বেড়ে চলা ভারতে ভেন্টিলেটরের চাহিদা তীব্র হচ্ছে। এই সময়ে বিভিন্ন ভারতীয় সংস্থা স্বল্প দামে ভেন্টিলেটর বাজারে আনছে। কিন্তু করোনা রোগীর শুশ্রূষায় তা কতটা কাজের? এক দেশীয় সংস্থার তৈরি ৮১ টি ভেন্টিলেটর ফিরিয়ে দিয়ে সেই প্রশ্নই আরও উসকে দিলেন মুম্বইয়ের সেন্ট জর্জ ও জেজে হাসপাতালের চিকিৎকেরা।
ইংরেজি দৈনিক মুম্বই মিরর সূত্রে খবর, গত মাসে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দান করা ৮১ টি ভেন্টিলেটর ব্যবহার না করায় সমালোচনার মুখে পড়েছিল মুম্বইয়ের সেন্ট জর্জ ও জেজে হাসপাতাল। মুম্বই তথা মহারাষ্ট্র জুড়ে প্রতিদিন যখন কয়েক হাজার করে সংক্রমিত বাড়ছে, তার মধ্যে এই ভেন্টিলেটরগুলি কাজে না লাগানোয় প্রশ্নের মুখে পড়ে দুই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু দুই হাসপাতালের চিকিৎকরাই জানান, করোনা রোগীর চিকিৎসায় এই ভেন্টিলেটরগুলি ব্যবহারের যোগ্য নয়। তাঁদের দাবি, মুম্বইয়ের এক সংস্থার তৈরি এই ভেন্টিলেটরগুলির একটি ব্যবহারের পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাছাড়া অন্যান্য ভেন্টিলেটরের একটিও কোভিড রোগীদের ১০০ শতাংশ অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারেনি।
করোনা বিধ্বস্ত মুম্বইয়ের সেন্ট জর্জ ও জেজে হাসপাতালে মোট ৮১ টি ভেন্টিলেটর দান করেছিল বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। মুম্বইয়ের AgVa Healthcare এর তৈরি এই ভেন্টিলেটরগুলির এক একটির দাম প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা, যা বিশ্বে অন্যতম সস্তা বলা চলে। নির্মাণকারী সংস্থার দাবি মতো, সাড়ে তিন কেজি ওজনের এই ভেন্টিলেটরগুলি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এবং তুলনামূলক কম আশঙ্কাজনক করোনা রোগীকে অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে পারবে। কিন্তু এই দাবি পুরোপুরিভাবে খারিজ করে দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
আরও পড়ুন: গোয়ায় মনোহর পারিক্করের সঙ্গে দেখা করলেন রাহুল গান্ধী, কারণ নিয়ে জল্পনা
সেন্ট জর্জ হাসপাতাল অনুদানে পাওয়া ৩৯ টি ভেন্টিলেটর ফিরিয়ে দিয়েছে। জেজে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও ৪২ টি ভেন্টিলেটর ফিরিয়ে দিচ্ছে বলে খবর।
প্রসঙ্গত, রোগীর ফুসফুস যদি কাজ না করে তাহলে তাঁর নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের কাজটা ভেন্টিলেটরের মাধ্যমে করা হয়। ভেন্টিলেটর সাপোর্টে করোনা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে এবং পুরোপুরিভাবে সেরে উঠতে রোগী কিছুটা সময় পান। নানা ধরনের ভেন্টিলেশন যন্ত্র দিয়ে এই কাজটা করা হয়।
গত ১৯ জুন সেন্ট জর্জ হাসপাতালের চিকিৎসকরা সাফ জানিয়ে দেন, কোনও পরিস্থিতিতেই করোনা রোগীর ব্যবহারের জন্য নয় এই ‘দেশি’ ভেন্টিলেটর। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভেন্টিলেটর নির্মাণকারী সংস্থা AgVa Healthcare এর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: ‘আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়’, তেলেঙ্গানা এনকাউন্টারের নিন্দা মমতার




