সালটা ছিল ২০১১। বহু লড়াইয়ের পর ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলার ইতিহাসে প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। এরপর কেটে গেছে ১ দশক। আবার একটি ভোটের মুখে পশ্চিমবঙ্গ।
এই পরিসরে ফিরে দেখা পড়ুয়াদের ফ্রি ট্যাবলেট প্রকল্প ২০২১।
পশ্চিমবঙ্গ ফ্রি ট্যাবলেট প্রকল্প ২০২১ কী?
আরও পড়ুন: টাকা দিয়ে লোক এনে সভা ভরায় BJP! বিস্ফোরক ভিডিও শেয়ার সেলিমের
করোনা আবহে অন্যান্য সবকিছুর মত শিক্ষাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। করোনার থাবায় বন্ধ হয়ে যায় স্কুল, কলেজ। স্কুল বন্ধ হলেও, পড়াশোনা হবে কী করে? শুরু হয় অনলাইন শিক্ষা। কিন্তু সমস্যা হয় গরিব, প্রান্তিক পরিবারের পড়ুয়াদের। তাঁরা স্মার্টফোন বা কম্পিউটার পাবে কোথায়? তাহলে কি বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া অতিমারি চলাকালীন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে?
স্কুল পড়ুয়াদের কথা চিন্তা করে বাংলার সরকার চালু করে পশ্চিমবঙ্গ ফ্রি ট্যাবলেট প্রকল্প ২০২১। নতুন প্রকল্পটি ২০২০ র ৩ ডিসেম্বর নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে ঘোষণা করেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
রাজ্য সরকারের প্রকল্প অনুযায়ী, ক্লাস টুয়েলভের সাড়ে ৯ লক্ষ সরকারি, আধা-সরকারি স্কুল এবং মাদ্রাসা পড়ুয়াদের অনলাইনে পড়াশোনার সুবিধার জন্য ফ্রিতে ট্যাবলেট অথবা স্মার্টফোন দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: বদল হতে চলেছে উচ্চমাধ্যমিকের প্রশ্ন ও উত্তরপত্র, বিজ্ঞপ্তি জারি সংসদের
কিন্তু এক লপ্তে এত ট্যাব সরবরাহ করবে কে? অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ১০ লক্ষ ট্যাব তৈরি করা দেশীয় সংস্থার পক্ষে অসম্ভব। আবার গালওয়ানের ঘটনার প্রেক্ষিতে চিনা সংস্থার থেকেও ট্যাব কিনতে রাজি নন মুখ্যমন্ত্রী।
শেষ পর্যন্ত মমতা সরকার জানায়, ক্লাস ১২ এর ৯.৫ লক্ষ পড়ুয়াদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। সেই টাকা দিয়ে অনলাইন এডুকেশনের জন্য স্মার্টফোন অথবা ট্যাবলেট কিনতে হবে দ্বাদশ শ্রেণির স্কুল পড়ুয়াদের।
প্রকল্পে আরও বলা হয়েছে, প্রত্যেকটি মাধ্যমিকস্তরের স্কুলে কম্পিউটার সরবরাহ করা হবে যাতে অনলাইনে পড়াশোনা সম্ভব হয়।

ফ্রি ট্যাবলেট প্রকল্পের উদ্দেশ্য
যে সমস্ত দরিদ্র পরিবারের ছেলে মেয়েরা অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত নিউ নর্মালে তাদের অন্তর্ভুক্ত করাই প্রকল্পের লক্ষ্য।
সুবিধা
এই প্রকল্পে প্রায় ৯.৫ লক্ষ দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী বিনামূল্যে ট্যাবলেট পাবে।
বিনামূল্যে ট্যাবলেট প্রকল্পটি ৩৬ হাজার সরকারি এবং আধা-সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে প্রদান করা হবে। অন্যদিকে ১৪ হাজার উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৬০০ মাদ্রাসা প্রকল্পের আওতায় এসেছে।
শুধুমাত্র করোনা পরিস্থিতিতে নয়, আগামী দিনেও এই প্রকল্পটি শিক্ষার্থীদের জন্য বহাল থাকবে। অর্থাৎ প্রতিবছর সরকার পড়ুয়াদের বিনামূল্যে ট্যাব বা স্মার্ট ফোন দেবে।
যোগ্যতা
রাজ্য সরকারের বিনামূল্যে ট্যাবলেট প্রকল্পের আওতায় থাকতে হলে অবশ্যই তাকে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হতে হবে। এছাড়াও আবেদনকারী স্কুল পড়ুয়াকে সরকারি আধা-সরকারি এবং মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতে হবে।
যে সমস্ত পরিবারের বার্ষিক আয় ২ লক্ষ টাকা এবং তার কম তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

রাজ্যের উন্নতি
শিক্ষা জীবনের এমন একটি অঙ্গ যা অন্ধকারের কালিমাকে ঘুচিয়ে আলোর পথ দেখায়। মমতা সরকার সেই আলোয় আলোকিত করতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ছাত্র সমাজের দিকে। দারিদ্রতার কুণ্ঠা যাতে যুবসমাজকে আঘাত করতে না পারে, তাদের শিক্ষার পথে কাঁটা হয়ে না দাঁড়ায় তাই এমন একটি প্রকল্পের অবতারণা।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, নিউ নর্মালে বেশ কিছু নতুনত্ব আমাদের সঙ্গী হয়েছে। গরিব পরিবারের ছেলে-মেয়েদের সমস্যাটা অনেক বেশি। তাই গরিব পরিবারের পড়ুয়ারাও যাতে শিক্ষার সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়, তাই ট্যাব বা স্মার্ট ফোন দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
শিক্ষা ব্যবস্থা যাতে উন্মুক্ত হয়, প্রকৃত অর্থেই ডিজিটাল হয় তার লক্ষ্যেই পশ্চিমবঙ্গ ফ্রি ট্যাবলেট প্রকল্প ২০২১।
আসন্ন ভোটে ট্যাব দেওয়ার ডিভিডেন্ড কি ঢুকবে তৃণমূলের ঝুলিতে? এখন এটাই সবচেয়ে বড়ো প্রশ্ন।