ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নজরে কি এবার গুগল? ভবিষ্যতে কি কোনও সমস্যায় পড়তে চলেছেন গুগলের ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার সুন্দর পিচাই? এই জল্পনা শুরু হয়েছে ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার ঠিক পরদিন গুগলের এক আভ্যন্তরীণ মিটিংয়ের ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর।
২০১৬ সালে মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে নিজের প্রচারে একাধিক ইস্যু তুলে ধরেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যার অন্যতম ছিল অভিবাসন, শরণার্থী ও বিদেশিদের জন্য মার্কিন নাগরিকরা কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ। ঘোষণা ছিল, ক্ষমতায় এলে এবিষয়ে দিকে নজর দেওয়া হবে। প্রচারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখে এসব কথা শুনেই ত্রাহি ত্রাহি রব উঠেছিল বহু মার্কিন বহুজাতিক সংস্থায়। কারণ, মার্কিন মুলুকে তথ্য প্রযুক্তি সংস্থাগুলিতে কর্মরত বিপুল সংখ্যক মানুষই অন্য দেশের। অন্য দেশ থেকে ওয়ার্কিং ভিসা নিয়ে মার্কিন মুলুকে এসেছেন কিংবা বহু বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বসবাস করছেন বা নাগরিকত্বের স্বীকৃতি পেয়েছেন এমন কর্মীর সংখ্যা এই সংস্থাগুলিতে প্রচুর। ফেসবুক, ট্যুইটার, গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যাপেল সর্বত্র কর্মী ও প্রযুক্তিবিদদের মধ্যে আতঙ্ক বাসা বেঁধেছিল, তাহলে কি ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এলে তাঁদের চাকরি হারাতে হবে! তাই অনেকেই চেয়েছিলেন ট্রাম্প নয় পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রপতি হন হিলারি ক্লিন্টন।
এই আতঙ্ক আরও জোরালো হয়, বারাক ওবামার উত্তরসূরী হিসাবে নির্বাচনে হিলারিকে পরাস্ত করে ডোনাল্ড ট্রাম্প রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পরে। ট্রাম্প জেতার পর এই আতঙ্কের বিষয়টি এমন চেহারা নেয় যে, বিভিন্ন নামী তথ্য প্রযুক্তি সংস্থার কর্তাদের তাঁদের কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক পর্যন্ত করতে হয়। বুধবার সামনে এসেছে গুগলের এরকমই একটি আভ্যন্তরীণ বৈঠকের ভিডিও। যা প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরদিনই এই বৈঠকটি হয়। ভিডিওটিতে দেখা গেছে, গুগলের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ভারতীয় বংশদ্ভুত সুন্দর পিচাই এবং গুগল অ্যালফাবেটের প্রধান সেরগেই ব্রিনকে। সেখানে গুগলের কর্মীদের সহানুভূতি জানাচ্ছেন এবং আশ্বস্ত করছেন এই দুই গুগল কর্তা। গুগলের অভ্যন্তরে যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই জয়ের ফলে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে পরে তাও জানান গুগলের সিইও। এই ভিডিও সামনে আসতেই রে রে করে উঠেছেন ট্রাম্পপন্থীরা। তাঁদের দাবি, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবজ্ঞা এবং হেয় করেছেন গুগল কর্তারা। হোয়াইট হাউস ঘনিষ্ঠ অত্যুৎসাহী কেউ কেউ ঘটনার তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন। ভোটের সময় ট্রাম্পের প্রচারের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার দাবি করেছেন, এই ভিডিওতে যা শোনা যাচ্ছে তা দেশের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। এর ব্যাখ্যা দিক গুগল। ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র জানিয়েছেন, এই সার্চ ইঞ্জিনটি বিশ্বের ৯১ শতাংশ অনলাইন অনুসন্ধান নিয়ন্ত্রণ করে, লোকজন কী দেখবে তা বকলমে ঠিক করে দেয়, এ একপ্রকার একচেটিয়া রাজত্ব।
যদিও এই বিতর্কের পর গুগলের তরফে এক বিবৃতি প্রকাশ করে বলা হয়েছে, বিগত ২০ বছরে গুগলের ইতিহাসে এই ধরনের আভ্যন্তরীণ বৈঠকের মাধ্যমে কর্মীদের মতামত শোনা হয়। কারণ সংস্থা মনে করে, সকলেরই স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার আছে। সংস্থার আরও দাবি, ওই বৈঠকে রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে কোনও কথাই বলা হয়নি। গুগল কর্তারা শুধুমাত্র তাঁদের কর্মীদের আশ্বস্ত করা এবং তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন। কিন্তু বুধবার এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেভাবে কড়া প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছে তাতে গুগল এবং সংস্থার কর্তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

You may also like