অমিত মিত্রের আপত্তি উড়িয়ে করোনা সামগ্রীতে GST বহাল, তামাশা বলল তৃণমূল

কোভিড চিকিৎসার সরঞ্জাম, ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রীর উপর জিএসটি কিছুটা কাটছাঁট করলেও প্রত্যাহার হল না। জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকের শেষে একথা জানান কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। এই সিদ্ধান্তকে তামাশা বলে অভিহিত করেছে তৃণমূল। বৈঠকে বাংলার অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র আপত্তি লিখিত ভাবে নথিভুক্ত করেছেন।

জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক শেষে সীতারমণ জানান, আপাতত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর মুকুবের এই সিদ্ধান্ত জারি থাকবে। সেই সঙ্গে এদিন জানানো হয় আগের মতোই কোভিড টিকার উপর ৫% জিএসটি বহাল থাকবে।

কোভিড টিকা ও ঔষুধের উপর কর মুকুবের দাবি করেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর টিকা রাজ্যগুলিকে কিনতে হবে না। তবে করোনার অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রীর উপর সম্পূর্ন কর মুকুবের দাবি করা হয়েছিল বিরোধীদের পক্ষ থেকে। কিন্তু কেন্দ্রের তরফে সে দাবি রাখা হয়নি।

করোনা চিকিৎসা সামগ্রীর উপর কর মুকুব না করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে কেন্দ্রকে ট্যুইটে তীব্র সমালোচনা করেছেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। তাঁর মতে এই সিদ্ধান্ত অভূতপূর্ব!

শনিবার সন্ধ্যেয় ট্যুইটে লেখেন, ভারত সরকার জনবিরোধী নীতি নিয়ে চলছে। ভ্যাকসিন, মাস্ক, স্যানাটাইজার, অক্সিজেন, পিপিই কিট, টেস্টিং কিট জাতীয় চিকিৎসা সামগ্রী থেকে জিএসটি নিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আমার আপত্তি শোনা হয়নি। এই জনবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ স্বরূপ আমি আমার আপত্তি লিখিতভাবে নথিভুক্ত করেছি।
এভাবে সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে ধীর মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

শুধু অর্থমন্ত্রীই নন, দল হিসেবে তৃণমূল সাংবাদিক বৈঠক করে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং সিনিয়ার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় করোনা কালে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে তামাশা বলে অভিহিত করেন।

উল্লেখ্য ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের মত রোগের চিকিৎসার ব্যবহৃত Tocilizumab, Amphotericin B ইনজেকশনের উপর থেকে অবশ্য জিএসটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

করোনা চিকিৎসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অ্যাম্বুলেন্স, RT-PCR মেশিনের মত চিকিৎসা সরঞ্জামের উপর ১৮% জিএসটি লাগু করা হয়েছে। Ramdesivir, Heparin এর মত করোনার ঔষুধ গুলির উপরে কর মুকুব করা হয়েছে। ১২% থেকে কমিয়ে ৫ % জিএসটি লাগু করা হয়েছে। একই ভাবে অক্সিজেন, অক্সিজেন কোনসেন্টেটর ক্ষেত্রে ১২% থেকে কমিয়ে ৫% জিএসটি চাপানো হয়েছে।

Comments
Loading...