বিদেশি রাষ্ট্রের সাহায্য কেরলের জন্য গ্রহণ করা হবে কিনা তা নিয়ে দিল্লি এবং কেরল সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই কেন্দ্রের অস্বস্তি বাড়িয়ে দক্ষিণ ভারতের এই বন্যা বিধ্বস্ত রাজ্যের জন্য সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিল পাকিস্তান। মানবিক কারণে বন্যায় বিপর্যস্ত কেরলকে সাহায্য করতে প্রস্তুত পাকিস্তান, বৃহস্পতিবার এক ট্যুইট বার্তায় এই কথা জানিয়েছেন সে দেশের নয়া প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ট্যুইটে ইমরান জানান, মানবিক কারণেই কেরলকে সাহায্য করতে প্রস্তুত পাকিস্তান।

পাকিস্তানের নয়া প্রধানমন্ত্রীর এই সাহায্যের প্রস্তাব এমন সময় এল, কেন্দ্রের তরফে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কেরলের জন্য কোনও বিদেশি রাষ্ট্রের আর্থিক সাহায্য গ্রহণ করা হবে না। কেন্দ্রের বক্তব্য, ২০০৪ সালে বিপর্যয় মোকাবিলা সংক্রান্ত যে নীতি তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার গ্রহণ করেছিল, সেই নীতি মেনেই এখন বিদেশি সাহায্য প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। কেন্দ্রের বক্তব্য, নিজের ক্ষমতাতেই দেশ এই বিপর্যয় মোকাবিলায় সক্ষম। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত ৬০০ কোটি টাকার সাহায্য করা হয়েছে কেরল সরকারকে, যা একেবারেই প্রাথমিক বরাদ্দ। বিস্তারিত রিপোর্ট আসার পর তা দরকারে আরও বাড়ানো হবে।
উল্লেখ্য, কেরলের পাশে থাকতে চেয়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির তরফে ৭০০ কোটি টাকা ও কাতারের তরফে ৩৫ কোটি টাকার সাহায্যের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্র তা নেওয়ার ক্ষেত্রে সম্মতি না দেওয়ায় ইতিমধ্যেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, শুরু হয়েছে রাজনৈতিক দোষারোপ। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে খুশি নয় কেরলের সিপিএম সরকার। কেরল সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক কোডিয়ারি বালাকৃষ্ণাণের অভিযোগ, আরএসএস কেরলের মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে সাহায্য না পাঠানোর যে ঘোষণা করেছে, কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেরল সিপিএমের দাবি, বিদেশি সাহায্য নিতে না চাইলে সমপরিমাণ অর্থের সাহায্য কেন্দ্রের তরফে কেরলকে দেওয়া হোক।
আরও পড়ুন: ৪১ বছর ধরে রোজ ১২ কিমি হেঁটে ‘দুয়ারে’ বই পৌঁছে দিচ্ছেন, পড়ুন এক ‘বইপাগল’ লাইব্রেরিয়ানের কথা
