লকডাউন আছে ঠিকই কিন্তু শহর ব্যস্ত স্বাভাবিকতায় ফিরতে। এদিকে সংক্রমিতের সংখ্যা বাড়ছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কেবল কনটেইনমেন্ট জোন ধরে ধরে লকডাউনের নীতি নেওয়া হয়েছে। সেই জন্য শহরে নির্দিষ্ট করা হয়েছে ১ হাজারটি কনটেইনমেন্ট জোন, যেখানে প্রবেশ-প্রস্থান নিষিদ্ধ। এই কনটেইনমেন্ট জোনগুলোতেই যাতে করোনাভাইরাসকে আটকে রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়, প্রশাসনের তরফে তার জন্য শুরু হয়ে গিয়েছে কাজ। এদিকে স্বাভাবিকতায় ফেরার প্রক্রিয়াও গতি পেয়েছে। রাস্তায় চলছে বাস, অ্যাপের মাধ্যমে বুক করা যাচ্ছে ওলা, উবর। পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মী নিয়ে কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে অফিসে। খুলে যাচ্ছে দোকানপাট, শপিং মল। এই পরিস্থিতিতে ভাইরাসকে কাবু করতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে প্রশাসন। এবার কনটেইনমেন্ট জোনের ধারনাকেও বদলে তা আরও বহুমুখী করে তোলার চেষ্টা চলছে।
৯ জুন, মঙ্গলবার প্রকাশিত সর্বশেষ তালিকায় দেখা যাচ্ছে, উত্তর থেকে দক্ষিণ, কলকাতা শহরে বাড়ি, একক অট্টালিকা (স্ট্যান্ড অ্যালোন বিল্ডিং) কিংবা হাউজিং সোসাইটি, হস্টেল তথা অফিস হাসপাতালের নাম। সেই তালিকায় যেমন আছে দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর, ঢাকুরিয়া, গোলপার্ক, লেক, কালিঘাট, ভবানীপুর, খিদিরপুর, একবালপুল, টালিগঞ্জ, গড়িয়া, বেহালার বিভিন্ন ঠিকানার নাম তেমনই রয়েছে কলেজ স্ট্রিট, হেদুয়া, শোভাবাজার, চালতাবাগান, কাশিপুর, মানিকতলা, কাঁকুড়গাছি, ফুলবাগান, বেলেঘাটা, বড়বাজার, জানবাজার, বৌবাজার, শিয়ালদহ, কুমোরটুলির বিভিন্ন বাড়ি বা ফ্ল্যাট।
সর্বশেষ তালিকায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য পুলিশ ট্রেনিং স্কুল। আলিপুরের পুলিশ ট্রেনিং স্কুলের একাধিক পোস্টাল অ্যাড্রেসকে কনটেইনমেন্ট জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। সরকারি তালিকায় রয়েছে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের কয়েকটি ঠিকানাও।
আরও পড়ুন: ১ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় পূর্ব মেদিনীপুরের ৯ কেন্দ্রে ভোট, ২০১৬, ২০১৯ সালে কী ফল ছিল?
এর আগে কলকাতা পুর এলাকায় কনটেইনমেন্ট জোন ধরে ধরে TheBengalStory দেখিয়েছিল, কোন আর্থসামাজিক এলাকায় করোনার প্রকোপ বেশি, কোথায় কম। সেখানে দেখা গিয়েছিল, মূলত নিম্ন আয় সম্পন্ন পরিবার যেখানে বসবাস করে, করোনাভাইরাসের প্রকোপ সেখানেই অন্যান্য জায়গার তুলনায় বেশি। পাশাপাশি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল কলকাতা কর্পোরেশন এলাকার কোন বরো তথা কোন ওয়ার্ডে করোনার প্রকোপ বেশি, তার তুলনামূলক বিশ্লেষণ। তারপর কেটে গিয়েছে বেশ কয়েকটা দিন। স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছে দেশ।

এই পরিস্থিতিতে সর্বশেষ যে তালিকা প্রকাশ করা হয়, তাতে কনটেইনমেন্ট জোনের সংখ্যা ১ হাজার। ৯ জুন অর্থাৎ মঙ্গলবার প্রকাশিত সর্বশেষ তালিকায় কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় কোনও ফ্ল্যাট, বাড়ি কিংবা হাউজিং সোসাইটিতে করোনা সংক্রমিত রোগীরা রয়েছেন। প্রশাসনের তরফে দাবি করা হচ্ছে, শহর কলকাতায় করোনার প্রকোপ নিম্নবিত্তদের মহল্লায় তেমন নেই। বরং প্রশাসনকে উদ্বেগে রেখেছে শহরের ফ্ল্যাটবাড়ি।
আরও পড়ুন: কোমর জল শরৎচন্দ্রের বাড়িতে, রূপনারায়ণ ছাপিয়ে প্লাবিত দেউলটি
দেখে নিন, সর্বশেষ কনটেইনমেন্ট তালিকায় কোন ঠিকানাগুলো আছে Kolkata Containment Zone List




