শুরু হল বাম-কংগ্রেসের ‘ঐতিহাসিক’ লং মার্চ

শনিবার সকালে চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভের সামনে থেকে শুরু হল বাম ও কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনগুলির ডাকা লং মার্চ। উদ্বোধন করলেন বর্ষীয়ান সিটু নেতা শ্যামল চক্রবর্তী। উপস্থিত ছিলেন অন্য অনেক বাম নেতা, ছিলেন কংগ্রেস নেতারাও। এই প্রথম বামেদের সঙ্গে কোনও বড় কর্মসূচিতে কংগ্রেসও সামিল হল। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র রীতিমতো বিজ্ঞপ্তি  জারি করে দলের সব শাখা সংগঠনকে এই লং মার্চে থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। বহু আদিবাসী মানুষ ধামসা, মাদল বাজিয়ে পদযাত্রীদের স্বাগত জানান। সঙ্গে ছিল আদিবাসী নৃত্যও। পশ্চিম ও পূর্ব বর্ধমান, হুগলি ও হাওড়া জেলার মধ্য দিয়ে ওই লং মার্চ বা পদযাত্রা ১১ ডিসেম্বর কলকাতায় পৌঁছবে। কলকাতায় হবে কেন্দ্রীয় সমাবেশ। উদ্যোক্তারা ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ওই সমাবেশ করতে চান। তার জন্য অনেক আগেই কলকাতা পুলিশকে বাম নেতারা চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু কলকাতা পুলিশ এখন পর্যন্ত ওই জায়গায় সমাবেশের অনুমোদন দেয়নি। তবে বাম ও কংগ্রেসের শ্রমিক নেতারা ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই সমাবেশ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাঁরা সাফ জানিয়েছেন, ১১ তারিখে ওই স্থলেই সমাবেশ হবে পুলিশ অনুমতি দিক বা না দিক।
এই ১২ দিনে মোট ২৮৩ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবেন পদযাত্রীরা। মূল যাত্রীর সংখ্যা একশো হলেও পথে রোজই নতুন পদযাত্রীরা সামিল হবেন। রাতে পদযাত্রীরা বিশ্রাম নেবেন বিভিন্ন জেলা শহর ও মফসসলে। সেখানে স্থানীয় বাম ও কংগ্রেস সমর্থকদের বাড়িতে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা থাকছে পদযাত্রীদের।
সিটু নেতা অনাদি সাহু জানান, শনিবার একই ভাবে মালদহ থেকে শুরু হয়েছে আরও একটি পদযাত্রা। পরে কোচবিহার থেকে এবং হিলি থেকে আরও দুটি পদযাত্রা শুরু হবে। সেই সব মিছিল ১০ ডিসেম্বর শিলিগুড়িতে পৌঁছবে। ওই দিন শিলিগুড়িতে হবে উত্তরবঙ্গের কেন্দ্রীয় সমাবেশ। তিনি জানান, এই লং মার্চের জন্য অনেক দিন আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গ্রাম, শহর সর্বত্র মিছিল, মিটিং, ছোট বড় সভা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বন্ধ করে দেওয়ার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং রাজ্যে শিল্প ও কাজের দাবিতে এই লং মার্চের ডাক দেওয়া হয়েছে। সিটুর নেতারা জানান, তাঁদের এই আন্দোলন রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে। এই পদযাত্রা থেকে এনআরসি বাতিলেরও দাবি জানানো হবে। তাঁদের দাবি, লং মার্চকে কেন্দ্র করে বাম কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গিয়েছে। একই দাবি কংগ্রেস নেতাদেরও। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন, উপনির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোটের ফল খারাপ হলেও আমাদের কর্মী, সমর্থকরা ভেঙ্গে পড়েননি। এই জোট আগামী দিনেও অটুট থাকবে। বাম এবং কংগ্রেস নেতারা বলছেন, এই লং মার্চ ঐতিহাসিক চেহারা নেবে।

Comments
Loading...