‘মন্ত্রীদের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করিয়ে টাকা নিয়েছেন এক সাংবাদিক, চাইলে নাম বলতে পারি’, কাটমানি ইস্যুতে বিধানসভায় বললেন মুখ্যমন্ত্রী

কাটমানি বিতর্কে এবার নাম জড়াল রাজ্যের সাংবাদিকদের একাংশের। এক সাংবাদিক মন্ত্রীদের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করিয়ে দিয়ে টাকা নিয়েছেন বলে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে অভিযোগ করলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কথার সূত্র ধরে শুরু হয়েছে জল্পনা, কোন সংবাদমাধ্যমের কোন সাংবাদিক এই ঘটনা ঘটিয়েছেন তা নিয়ে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী কারও নাম করেননি।
মুখ্যমন্ত্রীর কাটমানি বার্তার পর বুধবার বিষয়টি বিধানসভায় তোলেন বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান। কাটমানি নিলে বা দুর্নীতি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি যে বার্তা দিয়েছেন তাকে সাধুবাদ জানিয়ে বিধানসভায় মান্নান অভিযোগ করেন, শিক্ষা দফতরে চাকরি থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় টাকা না দিলে কাজ হয় না।
এরপর বলতে উঠে এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমার দলকে আমি শাসন করতেই পারি, কিন্তু কোন পেশায় কিছু লোক খারাপ নেই? সব জায়গায় দুর্নীতিগ্রস্ত, চোর লোকেরা আছে। ০.০১ শতাংশ লোক সব পেশাতেই খারাপ আছে। সাংবাদিকদের একাংশও তো দুর্নীতিতে যুক্ত আছে। আমি সব জানি। এই ধরনের সাংবাদিকরা একাধিক বাড়ি, গাড়িও করেছে। এরপরই আরও আক্রমণাত্মক সুরে মমতা বলেন, ‘কোন সাংবাদিকরা টাকা নিয়ে মন্ত্রীদের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করিয়ে দেন তাও জানি। নামও বলতে পারি। তাঁরাই আবার বড় বড় খবর লেখেন। একে-তাকে জ্ঞান দিয়ে বেড়ান। আমার মুখ খুলিয়ে লাভ নেই’। তিনি বলেন, ‘প্রকৃত সাংবাদিকতা করুন, স্যালুট জানাবো’।
এরপর মুখ্যমন্ত্রী ওই সাংবাদিকের নাম বলতে চাইলে তাঁকে হাত তুলে থামান আবদুল মান্নান। এরপর বিধানসভায় নিজের ঘরেও এই প্রসঙ্গ ফের উত্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সাংবাদিকদের একাংশের সম্পর্কে একইভাবে দুর্নীতি এবং টাকা নেওয়ার অভিযোগ এনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি সব জানি কোন কোন সাংবাদিক এই সব করছেন। চাইলে এখনই নাম বলতে পারি’। সেই সময় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বলেন, ‘না না, নাম বলার দরকার নেই’।
এর আগেও মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিকদের একাংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। সংবাদমাধ্যমের একাংশ খবর বিকৃত করে দেখায় বলে বারবারই অভিযোগ করেছেন তিনি। সম্প্রতি লোকসভা ভোট চলাকালীনও তিনি বহুবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, তারা বিজেপির কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এদিন যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় অধিবেশনের মধ্যে সাংবাদিকদের একাংশের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন এবং এক সাংবাদিক মন্ত্রীদের সঙ্গে বিভিন্ন লোককে দেখা করিয়ে টাকা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তা রীতিমতো নজিরবিহীন। মুখ্যমন্ত্রীর এই কথার পরই বিধানসভায় এবং সাংবাদিক ও মন্ত্রী মহলেও জল্পনা শুরু হয়ে যায় এই সাংবাদিকের পরিচয় নিয়ে।

Comments are closed.