লোকসভা ভোটের সময় হাওয়ালার মাধ্যমে টাকা পাচার করার জন্য দু’জন পুলিশ কমিশনারকে সরানো হয়েছিল বলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বেনজির অভিযোগ আনলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করে বিজেপিকে নিশানা করলেন তৃণমূল নেত্রী। শুক্রবার হুগলি জেলার নেতাদের সঙ্গে ভোটের পর্যালোচনা বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এর পাশপাশি, নিজেদের দলের ভোট বিপর্যয়ের প্রেক্ষিতে তৃণমূল নেত্রীর আত্মসমীক্ষা, ‘সিঙ্গুরে হার আমাদের কাছে লজ্জার’। নিজেদের দোষেই তাঁরা সিঙ্গুরে হেরেছেন বলে স্বীকার করে নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার হুগলির দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে মমতা বলেন, কোনও অভিযোগ এলে সরাসরি তা কালিঘাটে জানাতে হবে। কীভাবে লোকসভা ভোটে বিভিন্ন কেন্দ্র তৃণমূলের হাতছাড়া হয়েছে, এর বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মমতা বলেন, বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা ও ঋণ পাইয়ে দিয়ে ‘কাটমানি’ নেওয়া হচ্ছে,বহু মানুষই এতে ক্ষুব্ধ। যদিও লোকসভা ভোটে তৃণমূলের সার্বিক ফলাফলে বিজেপির ‘টাকার খেলা’কে মূল কারণ বলে ব্যাখ্যা করেছেন মমতা।
শুক্রবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোপ, এই লোকসভা ভোট ছিল ‘স্ক্যান্ডালাস’। কোটি কোটি টাকা খরচ করে ভোট করেছে বিজেপি, আর তাদের অঙ্গুলি হেলনে নির্বাচনের সময় কলকাতা এবং বিধাননগরের দু’জন সিপিকে সরানো হয়েছিল, অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর।
তিনি বলেন, কীভাবে এত টাকা এসেছিল তা খতিয়ে দেখতে ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি’ তৈরি করেছে তৃণমূল। শুধু তাই নয়, এদিন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আরও সুর চড়িয়ে মমতা জানান, আগামী দিনে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে কলেজিয়াম হোক। নির্বাচন কমিশনের ৩ জন মনোনীত ব্যক্তিই কেন সব নির্ধারণ করবেন, প্রশ্ন তোলেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, অধিকাংশ ইভিএমে ‘প্রোগ্রামিং’ করা ছিল, খারাপ ইভিএমের বদলে যে সব নতুন ইভিএম আনা হয়,তা মক পোল ছাড়াই ব্যবহার করা হয়। তিনি এও অভিযোগ করেন, লোকসভা ভোটের সময় এ রাজ্যে ‘এমার্জেন্সি’র চেয়েও খারাপ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। পাশাপাশি, কেন তিনি নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছেন না, সাংবাদিকরা এই প্রশ্ন করলে মমতা জানান, নীতি আয়োগের বৈঠকে গিয়ে কোনও লাভ হয় না, ওটা আসলে কেন্দ্রের ‘শো-অফ’। নিজেদের কিছু অ্যাজেন্ডা অনুযায়ী কাজ করে নীতি আয়োগ, তাতে রাজ্যের কোনও কাজ হয়না, মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তৃণমূল নেত্রী জানান, আগামী এক মাস ধরে জনসংযোগ যাত্রা করবেন তাঁরা। ২১ শে জুন পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা থেকে আরামবাগ পর্যন্ত এই যাত্রা শুরু হবে। জনসংযোগ যাত্রা চলবে আগামী ১৮ জুলাই পর্যন্ত।
হাওয়ালা টাকা পাচারের জন্য কলকাতা, বিধাননগরের সিপি বদল, সিঙ্গুরের হার আমাদের কাছে লজ্জারঃ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
চন্দ্রকোণা থেকে আরামবাগ পর্যন্ত হবে জনসংযোগ যাত্রা

Track Latest News Live on TheBengalStory.com and get news updates from West Bengal and around the world.
Categories
Bengal



