বুধবার পুরুলিয়া থেকে চার জেলার জন্য একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করে নাম না করে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এদিন চার জেলার একাধিক প্রকল্পের সূচনা করে মমতা বলেন,’দেখে মনে হবে ছোট প্রোগ্রাম, আদতে এগুলো বড়।’ কিন্তু অনেকে পাবলিসিটির জন্য একটা প্রোগ্রাম একদিনে উদ্বোধন করেন। এখানে একসঙ্গে আমাদের এত কাজ হয় এবং হচ্ছে যে এখান (পুরুলিয়া) থেকে যাওয়ার আগেও আমাকে বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন করে দিয়ে যেতে হচ্ছে।
এদিন পুরুলিয়া থেকে সংশ্লিষ্ট জেলা সহ ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর ও মুর্শিদাবাদ, এই চার জেলার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। পুরুলিয়ায় মানবাজার ও বান্দোয়ানে দুটি বাস টার্মিনাসের উদ্বোধন ছাড়াও বহরমপুরে বর্ণপরিচয় নামে একটি বাস টার্মিনাস ও ঝাড়গ্রামে ৩৩টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, গত ৯ বছরে অনেক জঙ্গলমহলে অনেক পরিকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও হবে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধার কথা বলতে গিয়ে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ঝাড়খণ্ড থেকে এসে বিজেপি নেতাও স্বাস্থ্যসাথী করছেন। প্রসঙ্গত, ঝাড়খণ্ড থেকে কাজে ছুটি নিয়ে বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড করিয়েছেন পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোর্তিময় সিংহ মাহাত ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড করেন। এছাড়া বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও তাঁর পরিবারও স্বাস্থ্যসাথী কার্ড করিয়েছেন।
কোভিড পরিস্থিতিতে হস্তশিল্পীরা প্রচুর অসুবিধায় পড়েছেন। তাই সেখানে সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। মেলায় হস্তশিল্পের সামগ্রী বিক্রির ৬১ টির বেশি দোকান থাকবে এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরের ৪২ টি স্টল করা হবে। জঙ্গলমহলের মানুষকে কোভিড বিধি মেনে এই মেলায় যোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান করেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এখানে উন্নয়নের কোনও ঘাটতি নেই। এই জেলার জলের সমস্যা মেটানোর ব্যাপারে পদক্ষেপ করা হবে। পাশাপাশি, পুরুলিয়ায় হোম ট্যুরিজমকে ‘এনকারেজ’ করতে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, হোম ট্যুরিজমে বহু কর্মসংস্থান হয়। বহু মানুষ বেড়াতে আসতে চান পুরুলিয়ায়। পর্যটন ক্ষেত্রে প্রচুর সম্ভাবনা আছে এই জায়গায়।
আরও পড়ুন: যশবন্ত সিনহা: গভীর রাতে মোদী-শাহ-নাড্ডা বৈঠক, হার নিশ্চিত জেনে EVM বদলের চক্রান্ত!
এদিন জঙ্গলমহল কাপে বিজয়ী ১ হাজার ১১২ জনকে চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে ধূপগুড়ির দুর্ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে ধূপগুড়ির জলঢাকা এলাকায় একটি পাথর বোঝাই লরির ধাক্কায় মৃত্যু হয় একটি গাড়িতে থাকা ১৩ জনের। তাঁরা একটি বিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন। এই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে মৃতদের পরিবারকে আড়াই লক্ষ টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং অল্প আহতদের জন্য ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।




