নীতিন গড়কড়ির মন্তব্যে ফের অস্বস্তিতে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার পুণের কাছে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপির এই গুরুত্বপূর্ণ নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, আমরা জাতপাতে বিশ্বাস করি না, আমাদের এখানে জাতপাতের কোনও স্থান নেই। আমি সবাইকে জাতপাত নিয়ে কথা বলতে বারণ করেছি, তা সত্ত্বেও যদি কেউ এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করে তবে আমি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।
নীতিন গড়কড়ির এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করেই এবার বিজেপির বিরুদ্ধে নয়া আক্রমণ শানালো কংগ্রেস। কংগ্রেসের মতে, জাতপাতের রাজনীতি করে বিজেপিই ভোট চায়, তাই গড়করির এই মন্তব্য বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেই লক্ষ্য করে। সোমবার মধ্য প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে একটি ট্যুইট করা হয়, সেখানে লেখা হয়, জাতপাত নিয়ে কথা বললে নীতিন গড়করি ব্যবস্থা নেবেন বলেছেন, কিন্তু যাঁরা হনুমানের জাত নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভোট চায় তাঁদের বিরুদ্ধেও কি ব্যবস্থা নেবেন তিনি?
উল্লেখ্য, এর আগে একাধিক বিজেপি নেতা হনুমানের জাত নিয়ে নানা রকম মন্তব্য করেছেন। প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ সাবিত্রী বাই ফুলে হনুমানকে দলিত বলে দাবি করেছিলেন। আবার উত্তর প্রদেশের মন্ত্রী লক্ষী নারায়ণ চৌধুরীর মতে, হনুমান আসলে হলেন জাঠ। মনে করা হচ্ছে, বিজেপি নেতাদের হনুমানের জাত নিয়ে করা এই ধরনের মন্তব্যের প্রসঙ্গই কংগ্রেস ট্যুইটে উল্লেখ করেছে।
তবে এই প্রথম নয়, এর আগে নীতিন গড়কড়ির মন্তব্যে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারকে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার উচ্চবিত্তের জন্য চাকরি এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ সংরক্ষণের যে সিদ্ধান্ত নেয়, তার প্রেক্ষিতে গড়করি বলেছিলেন, দেশে চাকরি নেই তো সংরক্ষণ দিয়ে আর কী হবে! তাঁর এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে সেসময় কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, বিজেপির মধ্যে একমাত্র গড়করিরই সত্যি কথা বলার মেরুদণ্ড রয়েছে। এর আগে লোকসভায় গড়করির বক্তব্য চলাকালীন সোনিয়া গান্ধীকে টেবিল চাপড়ে তাঁকে সমর্থন করতেও দেখা গিয়েছে।
রবিবার এনসিপি নেতা শারদ পাওয়ার বলেন, বিজেপির মধ্যে থেকে যেভাবে নীতিন গড়করির নাম মোদির বিকল্প প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উঠে আসছে তাতে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। এই অবস্থায় নীতিন গড়করির জাতপাত নিয়ে এই মন্তব্য কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে নতুন করে অস্বস্তিতে ফেলল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

You may also like