করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে দেশজুড়ে লকডাউনের মধ্যে ভারতীয় রেলের ৫৮ শতাংশের বেশি আয় কমেছে। ক্ষতির বহর কমাতে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ছাড়া অন্য সমস্ত পদে লোক নিয়োগ স্থগিত করে দিয়েছে তারা। এবার খরচ কমানোর কথা বলে সরাসরি ছাঁটাইয়ের পথে গেল ভারতীয় রেল। বিভিন্নভাবে ব্যয় সংকোচনের পরিকল্পনা করেছে তারা। ইংরেজি দৈনিক ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসে প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, রেলের বিভিন্ন দফতরকে চিঠি পাঠিয়েছে উপর মহল। তাতে খরচ কমানো, চুক্তি, কর্মীসংখ্যার প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি পর্যালোচনা করার পাশাপাশি জ্বালানি খরচ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খরচ কমাতে যে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে রেল:
আরও পড়ুন: চলতি আর্থিক বছরে ভারতের জিডিপি হবে ৫.১ শতাংশ, পূর্বাভাস এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের
১) জানা গিয়েছে, রেলের ব্যয় সংকোচনের পদক্ষেপ হিসেবে সাম্প্রতিকতম সংযোজন, প্রায় ৩০ হাজার লিঙ্ক হফম্যান বুশ (LHB) কামরায় ডাস্টবিন তুলে দিয়ে ৬০ কোটি টাকারও বেশি বাঁচানো। রিপোর্ট অনুযায়ী, ৩০ হাজার এলএইচবি কোচে ডাস্টবিন দেওয়ার জায়গায় মাত্র ৫ হাজার কামরায় তা দেওয়া হবে। এতে খরচ পড়বে ১.৭৮ লক্ষ টাকা।
২) প্রতিটি ট্রেনে অন্তত ১৫ জন কর্মী থাকেন কামরা পরিষ্কার করা, কাপড় কাচা, এসি রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদির জন্য। রেলের এক উচ্চপদস্থ কর্তাকে উদ্ধৃত করে ইকনমিক টাইমস জানিয়েছে, এখন ১৫ জনের পরিবর্তে ১১ জন কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে এবং কর্মীসংখ্যার অন্তত ২৫ শতাংশ হ্রাস করতে চাইছে রেল।
আরও পড়ুন: মমতা: আর একটা ধাক্কা দিন, বিজেপিকে ইউপি থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিন
৩) করোনা ঠেকাতে গত ২৪ মার্চ থেকে লকডাউনের পর কেবল নির্দিষ্ট পরিষেবা দিয়েছে রেল। সেই সময় শুধুমাত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য ১,২০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে রেলের। এখন রেলের চিঠিতে সংশ্লিষ্ট দফতরকে বলা হয়েছে, ‘ক্লিনিং শিফট তিনবারের জায়গায় দুই বা একবারে নামিয়ে আনতে হবে।’ ট্রেনের ভিড় অনুযায়ী এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পরিকল্পনা করতে হবে।
৪) খরচ কমাতে এবার কর্মী নিয়োগ স্থগিত করছে রেল। সমস্ত জোনাল রেলওয়েকে রেলওয়ে বোর্ড জানিয়ে দিয়েছে, নতুন পদ তৈরি আপাতত বন্ধ রাখতে হবে। গত দু’বছরের মধ্যে যে পোস্টগুলি তৈরি হয়েছে এবং এখনও খালি রয়েছে তা আপাতত সেভাবেই থাকুক। পাশাপাশি, রেলকর্মীরা যাতে সবরকম কাজে পারদর্শী হন সে ব্যাপারে নজর দিতে হবে। তার জন্য রেলওয়ে বোর্ড লেভেলে গঠিত হয়েছে মাল্টি-টাস্কিং কমিটি। রেলওয়ে বোর্ডের এক আধিকারিককে উদ্ধৃত করে ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানিয়েছে, কোনও আরপিএফ কর্মীর কাজের সঙ্গে বাণিজ্যিক বিভাগের স্টাফদের কাজ অনেক সময় ওভারল্যাপ করে। সেইভাবে, রেলে অন্য একজনের কাজ আর একজন বিভাগের কর্মী করতে পারেন কিনা তা নির্ধারণ করতে মাল্টি-টাস্কিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। যেহেতু রেলের ৮০ শতাংশ টিকিট বুকিং এখন অনলাইনের মাধ্যমে হয়, তাই অফলাইনের কাজে যুক্ত থাকা কর্মীদের অন্য দফতরে বদলির কথা ভাবা হচ্ছে।
৫) জ্বালানি বাঁচানো এবং জ্বালানির খরচ সাশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ করছে রেল। জানা গিয়েছে, ডিজেলচালিত লোকোমোটিভ কেবলমাত্র জেনারেল ম্যানেজারের অনুমোদনে চলবে। তাছাড়া, ডিজেল লোকোমোটিভগুলির জন্য কোনও খুচরা যন্ত্রাংশ আর নেওয়া হবে না। যেগুলি ৩০ বছরের পুরনো তা সরাসরি বাতিল করা হবে।
সবমিলিয়ে প্রথমে বেসরকারিকরণ, তারপর পদে নিয়োগ বন্ধ এবং সর্বশেষ ছাঁটাই, এভাবেই লোকসানে চলা রেলের খরচ কমাতে উদ্যোগী হয়েছে ভারতীয় রেল।




