ব্যাঙ্ক জালিয়াতির তালিকা কেন্দ্রকে দেওয়া সত্বেও ব্যবস্থা নেয়নি প্রধানমন্ত্রীর দফতর, বিস্ফোরক রঘুরাম রাজন

বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন। বিশেষ সংসদীয় কমিটির সামনে হাজির হয়ে সম্প্রতি রঘুরাম রাজন জানিয়েছেন, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর থাকার সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর দফতরে একটি বিশেষ তালিকা পাঠিয়েছিলেন, যেখানে ব্যাঙ্কের ঋণখেলাপী এবং অনুৎপাদক সম্পত্তি সম্পর্কিত হাই প্রোফাইল কয়েকটি কেসের কথা উল্লেখ করা ছিল। কিন্তু রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পাঠানো সেই তালিকার ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার এখনও কোনও ব্যবস্থা নিয়েছে কিনা তা তাঁর জানা নেই। ব্যাঙ্কের অনুৎপাদক সম্পত্তি কী করে উদ্ধার করা যায় এবিষয়ে নিয়ে গঠিত একটি সংসদীয় কমিটির সামনে এই কথাই জানিয়েছেন রঘুরাম রাজন।
এই কমিটির শীর্ষে রয়েছেন বর্ষীয়ান বিজেপি সাংসদ মুরলী মনোহর যোশী। কমিটির কাছে পেশ করা রিপোর্টে রাজন জানান, বর্তমানে অনুৎপাদক সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করার পরিমাণ বেড়েছে, কিন্তু যে পরিমাণ মোটা অঙ্কের বাণিজ্যিক লোন ব্যাঙ্কগুলির তরফ থেকে দেওয়া হয়েছে, তার তুলনায় এই উদ্ধারের পরিমাণ অনেক কম। সংসদীয় কমিটিকে রঘুরাম রাজন আরও জানিয়েছেন, তিনি আরবিআই-এর গভর্নর পদে থাকার সময় একটি ফ্রড মনিটরিং সেল গঠিত হয়েছিল। যাতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে একত্রে জালিয়াতির গভীরে পৌঁছোন যায়। কিন্তু সেই সেলকেও ঠিক মতো সহযোগিতা করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান পদ্ধতিতে হাই প্রোফাইল জালিয়াতির ঘটনার সঠিক তদন্ত করা যাচ্ছে না, ফলে জালিয়াতদের কাছে কড়া বার্তা যাচ্ছে না। তিনি আরও জানান, বৃহৎ বাণিজ্যিক লোন দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কগুলি যাবতীয় খোঁজখবর সঠিকভাবে অনেক সময় নেয় না, যার ফলে সমস্যা বাড়ে। সমস্ত ব্যাঙ্কের এ নিয়ে আলাদা আলাদা নিজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত। সংসদীয় কমিটিকে রঘুরাম রাজনের পরামর্শ, রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাঙ্কগুলির কাজকর্মেও আরও স্বাধীনতা আসা দরকার, সরকারের হস্তক্ষেপ পরিমার্জন করা উচিত।
এদিকে সংসদীয় কমিটির কাছে রঘুরাম রাজনের দেওয়া এই রিপোর্টের কথা সামনে আসতেই আসরে নেমেছে কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, সমস্ত তথ্য দেওয়া হলেও কোনও ব্যবস্থা জালিয়াতদের বিরুদ্ধে ও অনুৎপাদক সম্পত্তি উদ্ধার করতে নেওয়া হয়নি বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে। কংগ্রেসের দাবি, তারা ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার সময় অনুৎপাদক সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ২.৮৩ লক্ষ কোটি টাকা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ লক্ষ কোটি টাকায়। তবে হার মানতে নারাজ বিজেপি। তাদের দাবি, ওই রিপোর্টে ২০০৬ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে কংগ্রেস আমলে কীভাবে অনাদায়ী ব্যবসায়িক ঋণ ও অনুৎপাদক সম্পত্তির পরিমাণ বেড়েছিল তারও উল্লেখ করা হয়েছে।

Comments
Loading...