১২ ই জুলাই পর্যন্ত রাজীব কুমারকে গ্রেফতার করা যাবে না, তবে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে সিবিআই, জানাল কলকাতা হাইকোর্ট

কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে এখনই গ্রেফতার করা যাবে না, তবে সিবিআই ডাকলেই হাজিরা দিতে হবে, পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে তদন্তে। রাজীব কুমারের গ্রেফতারির ওপর রক্ষাকবচ আরোপ করে এমনই নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
রাজীব কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়ে গত ২৬ শে মে নোটিস পাঠিয়েছিল সিবিআই। সেই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে দ্বারস্থ হন রাজীব কুমার। যদিও বৃহস্পতিবার আদালতে সশরীরে হাজির ছিলেন না রাজীব কুমার। কলকাতা প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের পক্ষে আইনজীবী সুদীপ্ত মৈত্র আদালতে সওয়াল করেন। তিনি আদালতে জানান, ২০১৩ সালে এই মামলা শুরু হওয়ার পর থেকে সিবিআইয়ের পেশ করা কোনও চার্জশিটে রাজীব কুমারের নাম নেই। তাই তাঁকে এভাবে নোটিস পাঠানো যায় না। শুধুমাত্র তাঁকে গ্রেফতার করার জন্যই ক্যামোফ্লেজ করা হচ্ছে নোটিস পাঠানোর নামে।
জবাবে সিবিআইয়ের আইনজীবী জানান, সারদা তদন্তে বেশ কিছু তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি, রাজীব কুমারও তদন্তে সহযোগিতা করেননি। তাই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার।
এরপর রাজীব কুমারের গ্রেফতারির ওপর আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত রক্ষাকবচ আরোপ করে তাঁর ওপর বেশ কিছু শর্ত দেন বিচারপতি প্রতীক প্রকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার আদালত জানায়, রাজীব কুমারকে তাঁর পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে সিবিআইয়ের কাছে। জরুরি প্রয়োজন এবং সিবিআইয়ের তলব ছাড়া আপাতত কলকাতার বাড়ি ছেড়ে কোথাও যেতে পারবেন না রাজীব কুমার। কলকাতায় তাঁর বাড়িতে সিবিআইয়ের একজন প্রতিনিধি গিয়ে তাঁর উপস্থিতি নথিভুক্ত করবেন। অর্থাৎ, রাজীব কুমারকে একরকম গৃহবন্দি থাকার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।
গত সোমবার সিবিআইকে একটি চিঠি দিয়ে হাজিরার জন্য সাতদিন সময় চেয়েছিলেন কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার। ৬ দিনের জন্য সরকারি ছুটি নিয়ে উত্তর প্রদেশের তাঁর বাড়িতে গিয়েছেন, সেই কারণে সিজিও কমপ্লেক্সে সোমবার হাজিরা দিতে পারেবেন না, সিবিআইকে দেওয়া এক চিঠিতে এমনটাই জানিয়েছিলেন রাজীব কুমার।
রাজীব কুমারকে আগামী ৪ জুনের মধ্যে তাঁর বক্তব্য অতিরিক্ত হলফনামায় পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১২ই জুন।

Comments are closed.