Take a fresh look at your lifestyle.

‘মি টু’ মুভমেন্টের পাশে আরএসএস নেতা হোসাবলে, মুখ খুললেন স্মৃতি ইরানিও, চাপ বাড়ছে আকবরের উপর

আরএসএসের প্রবীণ নেতা দত্তাত্রেয় হোসাবলে মুখ খুললেন ভারতের ‘মি টু’ মুভমেন্ট নিয়ে। সংঘের এই জয়েন্ট জেনারেল সেক্রেটারি বৃহস্পতিবার একটি ট্যুইটের মাধ্যমে ভারতে মহিলারা যে সাহস করে সামনে এসে তাঁদের সাথে হওয়া অভব্যতা, হেনস্থা, অপমান নিয়ে যে মুখ খুলছেন, তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। ভারতে ফেসবুকের পলিসি ডিরেক্টর আঁখি দাসের লেখা একটি ফেসবুক পোস্ট শেয়ার করেছেন এই আরএসএস নেতা। আঁখি তাঁর ওই ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘যে সমস্ত মহিলা সাংবাদিক তাঁদের হেনস্থার কথা প্রকাশ্যে আনছেন তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমাদের আরও একটি ”মি টু” মুভমেন্টের প্রয়োজন নেই। এর জন্য একজন মহিলা হওয়ারও প্রয়োজন নেই। কোনটা ঠিক কোনটা ভুল এটা বুঝতে প্রয়োজন শুধু একটু সংবেদনশীলতার।’
ফেসবুক আধিকারিক আঁখির এই পোস্টটিই ট্যুইটারে শেয়ার করেছেন আরএসএস নেতা দত্তাত্রেয় হোসাবলে। লিখেছেন, ‘আমি যেটা অনুভব করছিলাম, সেটাই লেখা হয়েছে।’ হোসাবলের এই মন্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, তাঁর এই বিবৃতি এমন সময় এল, যখন দেশের বর্তমান বিদেশ প্রতিমন্ত্রী তথা প্রাক্তন সাংবাদিক এম জে আকবরের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অভব্য আচরণ ও হেনস্থার অভিযোগ এনেছেন একাধিক মহিলা। তাঁদের মধ্যে মহিলা সাংবাদিকও রয়েছেন। তবে আরএসএসের অন্দরে দত্তাত্রেয় হোসাবলে বরাবরই উদারপন্থী বলেই পরিচিত। এর আগেও তিনি সমকামিতাকে অপরাধের তকমা দেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন।
তবে ক্রমে চাপ বাড়ছে এম জে আকবরের ওপর। ইতিমধ্যেই কংগ্রেস এবং সিপিএম মন্ত্রিসভা থেকে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছে। এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অন্দরে তাঁর সতীর্থরাই এই অভিযোগ প্রসঙ্গে তাঁর মুখ খোলা উচিত বলে জানাচ্ছেন। বুধবার কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু কল্যাণমন্ত্রী মানেকা গান্ধীর পর এবার অনেকটা এই একই সুর শোনা গেল কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী স্মৃতি ইরানির কন্ঠে। বৃহস্পতিবার স্মৃতি বলেন, যাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে, তিনিই এই বিষয়ে সবচেয়ে ভালো বলতে পারবেন। অভিযুক্তের কথা বলা উচিত। স্মৃতির কথায়, ‘যাঁরা মুখ খুলছেন, তাঁদের লজ্জা পাওয়া উচিত নয়। তাঁদের নিয়ে ঠাট্টা, তামাশা করাও উচিত না।’ স্মৃতির কথায়, মহিলারা কাজে যান, অন্যদের মতো তাঁরাও নিজেদের স্বপ্নকে সম্বল করে সম্মানের সাথে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চান। মহিলারা বিচার পাবেন বলে এদিন আশা প্রকাশ করেছেন স্মৃতি।
তবে আকবরের পদত্যাগের বিষয়ে সরাসরি কিছু বলতে চাননি স্মৃতি ইরানি। যদিও এই মুহুর্তে নাইজেরিয়ায় থাকায় এম জে আকবরের কোনও প্রতিক্রিয়া এ বিষয়ে পাওয়া যায়নি। মানেকা গান্ধী ও স্মৃতি ইরানি আকবরের বিষয়ে নিজেদের মত জানালেও, বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবি শঙ্কর প্রসাদ অবশ্য এবিষয়ে মুখ খুলতে চাননি।

Comments are closed.