Take a fresh look at your lifestyle.

সবরীমালা রায় পুনর্বিবেচনা করবে সুপ্রিম কোর্ট, প্রকাশ্য শুনানি ২২ জানুয়ারি

সবরীমালা মন্দিরে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী মহিলাদের প্রবেশের ওপর যে প্রথাগত নিষেধাজ্ঞা ছিল গত সেপ্টেম্বরে তা খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এর পরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। একাধিক মহিলা মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের চেষ্টা করে বাধা পান। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে কেরলের বাম সরকার। তাতেও ছোটখাটো হিংসা রোখা যায়নি। যদিও আয়াপ্পা ভক্তদের বাধায় মন্দিরের গর্ভগৃহে ঢুকতে পারেননি কোনও মহিলা। এই রায় এবং মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশাধিকার নিয়ে কেরলে সিপিএমের সঙ্গে বিজেপির তীব্র সংঘাত শুরু হয়েছে।
কেরলসহ দক্ষিণ ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় আয়াপ্পার প্রচুর অনুগামী রয়েছেন। পাহাড়ি জঙ্গল পেরিয়ে পৌঁছোতে হয় এই মন্দিরে। বছরে মাত্র ১২৭ দিন খোলা থাকে এই মন্দিরের দরজা। প্রথাগতভাবে এই মন্দিরে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী মহিলাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। যার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন নারী অধিকারপন্থী সংগঠনগুলি। গত সেপ্টেম্বরে এক ঐতিহাসিক রায়ে সবরীমালার দরজা মহিলাদের জন্য খুলে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে হয়েছিল মামলার রায়দান। ৫ বিচারপতির বেঞ্চের ৪ জনই সবরীমালার গর্ভগৃহে মহিলাদের প্রবেশের পক্ষে রায় দেন।
রায়ে আদালত জানায়, এই নিষেধাজ্ঞা ধর্মীয় আচরণ পালনের জন্য আবশ্যিক নয়। এমন নির্দেশ অস্পৃশ্যতার সামিল। তবে সমাজের নানা স্তর থেকে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ উঠতে শুরু করেছে। সব ধরনের ধর্মীয় আচারকে আইনের মাপকাঠিতে মাপা যায় কিনা সেই প্রশ্নও তোলেন অনেকে। যা নিয়ে শুরু হয়ে বিতর্ক। সব মিলিয়ে সবরীমালা নিয়ে জমা পড়ে ৪৯ টি রিভিউ পিটিশন। কেরলের মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন দেখে প্রকাশ্য শুনানিতে রাজি হয়েছে আদালত। ২২ জানুয়ারি থেকে শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে একইসঙ্গে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যে রায় দেওয়া হয়েছে তাতে কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হবে না। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈই, বিচারপতি আরফ নারিমান, এ এম খানভিলকর, ডি ওয়াই চন্দ্রচুড় ও ইন্ধু মালহোত্রা এদিন রিভিউ আবেদনপত্র ‘ইন-চেম্বার’ নিয়েছেন। ৮০০ বছরের পুরনো দক্ষিণ ভারতের এই মন্দির নিয়ে দু’মাস বাদে দেশের সর্বোচ্চ আদালত নতুন কী রায় দেয়, এখন তারই অপেক্ষায় দিন গুনছে ওয়াকিবহাল মহল।

Comments are closed.