জেএনইউ হামলাকে পূর্বপরিকল্পিত বলে আগেই অভিযোগ তুলেছেন ছাত্র সংসদের প্রেসিডেন্ট ঐশী ঘোষ। এবার একই অভিযোগ তুলে জেএনইউ পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়াল দেশের দুটি আইআইটি।

রবিবারের জেএনইউ হামলার তীব্র নিন্দা করে আইআইটি বম্বের পড়ুয়ারা ‘গণতান্ত্রিকভাবে’ প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। মঙ্গলবার জেএনইউ প্রতিবাদীদের সমর্থনে একটি বিবৃতি জারি করেছে আইআইটি বম্বে। ১৪১ জন অধ্যাপকের সই করা এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরিকল্পনামাফিক দেশের একের পর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আঘাত হানা হচ্ছে। জেএনইউ থেকে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়, বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া, কোনও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই পড়ুয়াদের এই আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে পারছে না বলে অভিযোগ এই বিবৃতিতে।
অন্যদিকে রবিবার জেএনইউ হামলার ঠিক একদিন আগে প্রায় একই ধরনের একটি বিবৃতি প্রকাশ হয়েছে আইআইটি কানপুর থেকে। উর্দু কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের একটি গান নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়, সেই প্রেক্ষিতে আইআইটি কানপুর জানাচ্ছে, পড়ুয়াদের দায়িত্বপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলনের প্রতি তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন রয়েছে। অধ্যাপক ও পড়ুয়াদের সই করা সেই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণতান্ত্রিক দেশের ‘পাবলিক ফান্ডেড’ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের অধিকার আছে যে কোনও বিষয়কে পরীক্ষামূলকভাবে দেখা এবং গণতান্ত্রিকভাবে তার বিরোধিতা করা। পাশাপাশি বিরুদ্ধ মতের প্রতিও সহিষ্ণুতা বজায় রাখা কর্তব্য বলে লেখা হয় বিবৃতিতে।
রবিবার জেএনইউ ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ুয়াদের উপর নৃশংস হামলার বিরুদ্ধে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। অক্সফোর্ড, কলম্বিয়া, সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। একাধিক বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে আসছে বিবৃতি। বস্তুত রবিবার রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ওই হামলার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে। রাতেই দেশের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা পথে নেমেছেন। সোমবার দেশের প্রায় সব রাজ্যে ছাত্র সমাজ, নাগরিক সমাজ যে যার মতো করে জেএনইউ-কাণ্ডের প্রতিবাদ করেছে। ছোট বড় অসংখ্য মিছিল হয়েছে। কলকাতাতেও মিছিল হয়েছে।

ধারাবাহিকভাবে পাশে থাকার জন্য The Bengal Story র পাঠকদের ধন্যবাদ। আমরা যে ধরনের খবর করি, তা আরও ভালোভাবে করতে আপনাদের সাহায্য আমাদের উৎসাহিত করবে।

Login Support us