প্যাংগঙে চিনের গুরুত্বপূর্ণ সেনা ঘাঁটি দখল করল ভারত! দাবি ব্রিটিশ মিডিয়ার, পাল্টা সেনা মোতায়েন করছে বেজিং

লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ছে। গত ১৫ জুন দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের সেনার মধ্যে রক্তক্ষয়ী ফেসঅফের পর কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলছে। কিন্তু তাতে এখনও পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য সমাধানসূত্র অধরা। এরই মধ্যে চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশ হল ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফে।

গত ৩১ অগাস্ট, সোমবার ব্রিটেনের দ্য টেলিগ্রাফে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে। ওই খবরের কাগজের ভারতের সাংবাদিক জো ওয়ালেন সেখানে দাবি করেছেন, ভারতীয় সেনার গোপন স্পেশাল অপারেশনস ব্যাটালিয়ন প্যাংগং সো এলাকায় চিনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পোস্ট দখল করে ফেলেছে।

ঠিক তার পরের দিন ভারতের বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে দেশের অন্যতম সেরা ডিফেন্স রিপোর্টার অজয় শুক্লাও প্রায় একই কথা জানিয়েছেন। তবে চিনা পোস্ট দখল হয়েছে কিনা তা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।

 

কী হয়েছিল? 

২৯ অগাস্ট, শনিবার সন্ধ্যায় পিপলস লিবারেশন আর্মির প্রায় ৫০০ জওয়ান লাদাখের স্পাঙ্গার উপত্যকা অতিক্রম করে চুশুল গ্রামের দিকে এগোতে থাকে। বাধা দেয় ভারতীয় সেনা। কিন্তু বাধা উপেক্ষা করে এগোতে শুরু করে পিএলএ। ভারতীয় সেনার মতে সেই সময় পিএলএ বিতর্কিত অ্যাকচুয়াল লাইন অফ কন্ট্রোল পেরিয়ে ভারতের অর্ধে চলে এসেছিল। সেই সময় নামানো হয় স্পেশাল অপারেশনস ব্যাটালিয়নকে। শুরু হয় তুমুল হাতাহাতি।

দ্য টেলিগ্রাফ সূত্রে খবর, প্রায় ৩ ঘণ্টার হাতাহাতির পর পিএলএর ৫০০ জওয়ানকে কার্যত তাড়া করে ভারতীয় সেনার গোপন স্পেশাল অপারেশন ব্যাটালিয়ন। তাড়া খেয়ে চিনের ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ে পিএলএ। তখনও তাদের পিছু ছাড়েনি SOB। ভোররাতে চিনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেনা পোস্টের দখল নেয় তারা। প্যাংগং সো এলাকায় এই সামরিক পোস্টটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রাতভর চলা অপারেশনে কারও কি মৃত্যু হয়েছে? আহত হয়েছেন কি কেউ? এ বিষয়ে মুখে কুলুপ দুই দেশেরই। দ্য টেলিগ্রাফেও এ নিয়ে কিছু স্পষ্ট করা হয়নি। মন্তব্য করেননি অজয় শুক্লাও।

কিন্তু তারপরেই চিনের তরফ থেকে একের পর এক গরমা গরম বিবৃতির ফোয়ারা ছোটে। এলাকার নাম না করে চিনের বিদেশ মন্ত্রক থেকে বলা হয়, ভারতের আগ্রাসন এলাকার শান্তি বজায় রাখার পরিপন্থী হয়ে উঠেছে। চিন কিংবা ভারত, সিক্রেট অপারেশনের ব্যাপারে কোনও দেশই মুখ না খুললেও চিনের প্রতিক্রিয়ার ঝাঁঝ দেখে ডিফেন্স রিপোর্টাররা মনে করছেন, ভারতের স্পেশাল অপারেশনস ব্যাটালিয়নের হামলার মুখে পিএলএ কার্যত বোকা বনে গিয়েছে।

ভারতের সেনা বাহিনীর সঙ্গে চিনের সেনার মূল পার্থক্য তাদের পরিকাঠামো এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। কিন্তু লাদাখ সেক্টরে দীর্ঘক্ষণ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা পিএলএর নেই। যা ভরপুর রয়েছে ভারতীয় সেনার। ভারতের অন্যতম সেরা ডিফেন্স রিপোর্টার সুশান্ত সিংহ জানাচ্ছেন, এই মুহূর্তে লাদাখ রিজিয়নে দু’দেশ মিলিয়ে প্রায় ১ লক্ষ সৈন্য মোতায়েন রয়েছে। কিন্তু স্পেশাল অপারেশন ব্যাটালিয়নের মতো সিক্রেট বাহিনীর আচমকা আবির্ভাব যে কোনও হিসেব গোলমাল করতে ওস্তাদ তা হাতেকলমে প্রমাণিত।

 

স্পেশাল অপারেশনস ব্যাটালিয়ন কী এবং কেন? 

হাই অল্টিচিউডে দীর্ঘক্ষণ লড়াই চালানোর জন্য প্রশিক্ষিত ব্যাটালিয়ন। এতে নেওয়া হয় কেবলমাত্র লাদাখিদের। যাঁদের এলাকার চড়াই উতরাই সম্বন্ধে কয়েক প্রজন্মের অভিজ্ঞতা আছে। এই বাহিনী সারা বছরই গোপনে থাকে। কিন্তু যখনই প্রয়োজন হয় তাঁদের নামানো হয় ময়দানে। লাদাখ এলাকায় চিনের দিকে দেখভালের দায়িত্ব পিএলএর ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের। এই কমান্ডের আওতায় চিন অধিকৃত তিব্বত।

সুশান্ত সিংহ জানাচ্ছেন, দলাই লামা কাণ্ডের পর ভারতীয় সেনা এমন একটি সিক্রেট ফোর্সের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। তখনই স্থানীয়দের নিয়ে দীর্ঘকালীন পরিকল্পনায় এই ফোর্স তৈরি করা হয়। এই বাহিনী তিব্বতে ঢুকে সেখানে চিন বিরোধী কার্যকলাপে মদত দেওয়ার কাজ নিয়মিতভাবে চালিয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এবার সেই বাহিনীর মুখে পড়েই তল্পিতল্পা গুটিয়ে পালানোর পথ খোঁজায় ব্যস্ত পিপলস লিবারেশন আর্মি। এমনকী পিএলএকে তাড়া করে তারা চিনের সেনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পোস্টেরও দখল নিয়ে নিয়েছে বলে দাবি করেছে ব্রিটেনের দৈনিক। যদিও এখন সেই পোস্ট ভারতীয় কবজায় আছে নাকি তা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। কিন্তু চিনের বিবৃতিতে ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে, ভারতীয় সেনার এই গোপন বাহিনীর তাণ্ডবে ব্যতিব্যস্ত শি জিনপিংয়ের প্রবল প্রতাপশালী PLA।

Comments
Loading...