পেন্টাগনে সুন্দর পিচাই, কথা মার্কিন সেনা কর্তাদের সঙ্গে

তবে কি মার্কিন প্রশাসনের সাথে ধীরে ধীরে সম্পর্কের বরফ গলফ গলছে বিশ্বের বৃহত্তম তথ্য প্রযুক্তি সংস্থা গুগলের! গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আর্থিক উপদেষ্টার সাথে দেখা করার পর এবার মার্কিন সেনা সদর পেন্টাগনে গিয়ে সেনা কর্তাদের সাথে দেখা করলেন গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই। জানা গেছে, গত সপ্তাহে ওয়াশিটনের পাশাপাশি পেন্টাগনেও গিয়েছিলেন পিচাই।
কী কথা হল গুগল কর্তার সাথে পেন্টাগন কর্তাদের? জানা গিয়েছে, প্রজেক্ট ‘মার্ভেন’ নিয়ে এই শীর্ষ স্তরে আলোচনা হয়েছে। প্রজেক্ট মার্ভেন হল মার্কিন সেনার এক বিশেষ প্রযুক্তি। বিশদে জানা না গেলেও, শোনা যাচ্ছে, এটি মূলত ড্রোন নির্ভর একটি বিশেষ সেনা প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ড্রোনের মাধ্যমে তোলা বিভিন্ন ভিডিওর পূঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে এবং যুদ্ধের সময় নির্ভুলভাবে টার্গেট করা যাবে লক্ষ্য বস্তুকে। মূলত যুদ্ধ ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চাইছে মার্কিন সেনা। এবিষয়েই কথা বলতে পিচাইয়ের এই পেন্টাগন সফর বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও সরকারিভাবে মার্কিন সেনার তরফে বলা হচ্ছে, এই গোপন বৈঠক নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলা হবে না। জানা গেছে, মার্কিন ডিফেন্স আন্ডার সেক্রেটারি (ইন্টেলিজেন্স) সহ একাধিক শীর্ষ সেনা কর্তাদের সাথে বৈঠকটি করেছেন সুন্দর পিচাই।
মাঝে, মাস চারেক আগে সেনার সাথে গুগলের এই প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। গুগলের অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠেছিল,  সেনাকে আরও নিপুন দক্ষতায় খুনের জন্য গুগল কেন প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে? জুন মাসে সেই বিতর্কের ফলে সেনার সাথে ‘মার্ভেন’ প্রজেক্টের চুক্তি নবীকরণ করা হবে না বলেও জানানো হয়েছিল গুগলের তরফে। তারপর আবার এই বৈঠক তাই অনেক জল্পনাই উস্কে দিচ্ছে। তবে উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে ইদানিং গুগলের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। দিন কয়েক আগে স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেণ্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন, গুগল তাদের সার্চ ইঞ্জিন ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিরুদ্ধ মত সামনে আসতে দিচ্ছে না, বিরোধী মত দমানোর চেষ্টা চলছে। যার পর গত সপ্তাহেই ওয়াশিংটনে ছুটতে হয়েছিল গুগল কর্তা পিচাইকে। তখন জানা যায়, ত থ্য প্রযুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রশাসন যে বিশেষ সভার আয়োজন করতে চলেছে তাতে যোগ দেবে গুগল। সম্মেলনের ফাঁকে গুগল কর্তাদের সাথে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকও হবে। তবে গুগলের তরফে তথ্য চাপা দেওয়ার অভিযোগ মানা হয়নি।
এর আগে একটি ভিডিও নিয়েও ট্রাম্পপন্থীরা এক হাত নিয়েছিলেন গুগল কর্তাদের। ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর সেই ভিডিওতে দেখা যায়, গুগলের বহু কর্মী ট্রাম্প জমানায় কাজ হারানোর ভয় পাচ্ছেন। আর তাদের সান্তনা দিচ্ছেন গুগল কর্তারা। এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর ট্রাম্পপন্থীরা ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন, দাবি তুলেছিলেন ব্যবস্থা নেওয়ার।

Comments
Loading...