Corona: সুরেন্দ্রনাথ কলেজের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক এবং ল্যাব-অ্যাসিস্টান্টরা তৈরি করছেন হ্যান্ড স্যানিটাইজার! বিক্রি নয়, সাধারণ মানুষকে বিলির সিদ্ধান্ত কলেজ কর্তৃপক্ষের

বাজার থেকে উধাও হ্যান্ড স্যানিটাইজার। ৫০ এমএল-এর শিশির দাম সাধারণত ৪০ টাকা, ১০০ এমএল-এর দাম ৮০ টাকা পড়ে দোকানে। গত ক’দিন ধরে তা পাওয়া যাচ্ছে না। কোনও কোনও দোকানে পাওয়া গেলেও দাম প্রায় দ্বিগুণ চাওয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় শহরের কিছু কলেজ এবং স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান নিজেরাই হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানাতে উদ্যোগী হয়েছে।
কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপকরা এই কাজে হাত দিয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইড লাইন মেনে গত তিনদিন ধরে কাজ করে নিজেদের ল্যাবে তৈরি করে ফেলেছেন স্যানিটাইজার। নাম দেওয়া হয়েছে স্পর্শ।
বিভাগীয় প্রধান, অধ্যাপক হরিশঙ্কর বিশ্বাস জানান, হ্যান্ড স্যানিটাইজারের আকালের কথা মাথায় রেখেই বিভাগের অন্যান্য অধ্যাপক ও ল্যাবরেটরি অ্যাসিস্ট্যান্টদের সঙ্গে নিয়ে এই স্যানিটাইজার তৈরি করা হয়। প্রধান সরঞ্জাম হিসেবে  লেগেছে অ্যাবসোলিউট আলকোহল, সীমিত পরিমাণ হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড (যা মানবদেহের ক্ষতি করবে না), গ্লিসারল ও মিথাইলিন ব্লু রং।
স্যানিটাইজারটি বানানোর পর ৭২ ঘণ্টা রেখে দিতে হয় তা ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে। প্রতি ৫০ এমএল তৈরি করতে খরচ পড়েছে প্রায় ৩০ টাকা।হরিশঙ্করবাবু জানান, অ্যাবসোলিউট অ্যালকোহল বেশি পরিমাণে কিনতে দরকার পড়ে সরকারি অনুমোদন। তার জন্য বিকাশ ভবনে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

হঠাৎ এই খেয়াল কেন? হরিশঙ্করবাবু বললেন, করোনার জন্য কলেজ তো বন্ধ। কিন্তু প্রশাসনিক কাজকর্মের জন্য আমাদের আসতে হচ্ছে। কলেজের জন্য স্যানিটাইজার কিনতে গিয়ে কোথাও পেলাম না। কলেজে ফিরে সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বললাম। ভাবলাম, আমরা তো আমাদের ল্যাবেই তৈরি কিরে নিতে পারি। তারপর নেমে গেলাম কাজে। হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক দোকান ঘুরে পূরবী সিনেমা হলের সামনে একটি দোকানে পেয়ে গেলাম। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ১০০ মিলিলিটারের ৩৬ বোতল স্যানিটাইজার তৈরি করা হয়েছে।
কলেজের অধ্যক্ষ ইন্দ্রনীল কর জানান, এই স্যানিটাইজার তাঁরা বাণিজ্যিক ভাবে বিক্রি কিরবেন না। কলেজের আশেপাশে লোকজনকে বিলি করা হবে। তিনি বলেন, আরও বেশি করে তৈরি করার ইচ্ছে আছে। তবে তহবিলের কথাও তো ভাবতে হবে। দেখা যাক।
গুরু নানক ইনস্টিটিউট অফ ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্স এন্ড টেকনোলজিও তৈরি করেছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ লোপামুদ্রা দত্ত জানান, কোনও মুনাফা না রেখে তাঁরা এটি মানুষের কাছে সুলভে পৌঁছে দিতে চান।
বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও ১০০ মিলিলিটারের ৫০০০ বোতল স্যানিটাইজার বানিয়েছে।

Comments
Loading...