আশঙ্কা সত্যি করে বৃহস্পতিবার ভোরে ওড়িশার গোপালপুরে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণি ঝড় তিতলি। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এদিন ভোর ৫ টা ৪০ নাগাদ যখন ওড়িশার গঞ্জাম জেলার গোপালপুর তটে তিতলি প্রবেশ করে তখন তার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৬ কিমি। তিতলির প্রভাবে গোপালপুর সহ ওড়িশার উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে বুধবার থেকেই শুরু হয়েছিল প্রবল বৃষ্টি ও তার সাথে তীব্র ঝোড়ো হাওয়া। এদিন তা আরও বেড়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী পাঁছ ছয় ঘণ্টা এরকম ভয়াল রূপেই থাকবে তিতলি, তারপর ধীরে ধীরে তার শক্তি ক্ষয় হয়ে উত্তরে সরে সে প্রবেশ করতে পারে পশ্চিমবঙ্গে। এর প্রভাবে এরাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ৫৬-৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবার পাশাপাশি, বৃষ্টিও হবে।
জানা গেছে ওড়িশার গোপালপুরের পাশাপাশি অন্ধ্রপ্রদেশের কলিঙ্গপত্তনমেও তীব্র আঘাত হেনেছে তিতলি। তবে যতটা মনে করা হয়েছিল যে ঘণ্টায় ১৪৫ থেকে ১৫০ কিমি বেগে আঘাত হানতে পারে তিতলি, ততটা শক্তি নিয়ে আসেনি তা। তবে ক্ষতি কিছু কম হচ্ছে না। প্রাথমিক খবর, ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে তিতলির প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভেঙে পড়েছে বহু কাঁচা বাড়ি, গাছ, লাইট পোস্ট। বহু গাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। একাধিক জায়গায় ধ্বসের খবর মিলেছে। অবশ্য এমন আশঙ্কা আগেই করা হয়েছিল। তাই গঞ্জাম, খুরদা, পুরী, কেন্দাপাড়া, জগৎসিংহপুরের মতো ওড়িশার উপকূলবর্তী এলাকা গুলি থেকে আগেই প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। খালি করে দেওয়া হয় সমুদ্র তীরবর্তী হোটেলগুলিও।  অন্ধ্রের সমুদ্র তীরবর্তী এলাকাগুলি থেকেও অনেক মানুষকে আশ্রয় শিবিরে পাঠানো হয়েছে। ওড়িশার গোপালপুর ও বেরহামপুরের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন। উত্তাল সমুদ্রের কারণে দু’দিন আগে থেকে সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল মৎস্যজীবীদের।
এরাজ্যেও তিতলির প্রভাবে দক্ষিণ বঙ্গের বেশ কিছু জেলাতে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি হতে পারে বলে আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে। ওড়িশা থেকে উত্তর দিকে সরে ধীরে এরাজ্যে আসবে তিতলি। কিন্তু তখন তার শক্তি প্রায় অর্ধেক হয়ে যাবে। যার প্রভাবে এরাজ্যের সমুদ্র তটবর্তী এলাকাগুলিতে ৬০ থেকে ৬৫ কিমি বেগে হাওয়া বইবে। দুপুর বা বিকেলের পর থেকে বৃষ্টি হতে পারে কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি ও নদিয়ায়। আরও দুদিন এরাজ্যে বৃষ্টি চলবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

You may also like