লকডাউন আর আমফানের প্রভাব কাটিয়ে গত জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই কলকাতায় ট্রাম চলাচল শুরু হয়েছে। চলছে টালিগঞ্জ থেকে বালিগঞ্জ, ২৪/২৯ রুটের ট্রাম পরিষেবা। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার রাজাবাজার থেকে হাওড়া ব্রিজ পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে ট্রাম চালানো হল। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই রুটেও ট্রাম চলাচল শুরু হয়ে যাবে বলে আশাবাদী পরিবহণ দফতরের কর্তারা।

করোনা সংক্রমণ রুখতে গত ২৪ মার্চ  থেকে দেশব্যাপী শুরু হয় লকডাউন। সেই থেকে কলকাতার ট্রাম পরিষেবা বন্ধ ছিল। তারপর আমপান ঘূর্ণিঝড়ে গাছ উপড়ে বহু ট্রামের ট্র‍্যাক এবং ওভারহেড তার ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সেই থেকে কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা পুলিশের সক্রিয় সহযোগিতায় পরিবহণ দফতর মেরামতির কাজে হাত লাগায়। যার মধ্যে কয়েকটি রুট পুনরুদ্ধার করা গিয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই হাওড়া ব্রিজ থেকে রাজাবাজার পর্যন্ত ট্রাম পরিষেবা শুরু হয়ে যাবে বলে খবর। পাশাপাশি, ট্রামের শোভাবর্ধনের কাজেও হাত লাগানো হয়েছে। গত সপ্তাহের শুরুতে টালিগঞ্জ-বালিগঞ্জ রুটের ট্রামে একটি হেরিটেজ আর্ট ইনস্টলেশন করা হয়েছে। কলকাতার ঐতিহ্য এবং ট্রামের ইতিহাস সম্পর্কে নবীনদের সজাগ করতেই এই উদ্যোগ বলে জানান পরিবহণ দফতরের কর্তারা।

১৮৭৩ সালে কলকাতার রাস্তায় শুরু হয় ট্রামের যাত্রা। ১৯০০ সাল থেকে কলকাতায় ট্রাম বিদ্যুতে চলে। পুরনো কলকাতার ঐতিহ্য ও রাস্তার শোভা বাড়িয়ে আজও কলকাতার রাস্তায় দৌড়য় ট্রাম। তবে এর আধুনীকিকরণেও মন দিয়েছে রাজ্য পরিবহণ দফতর। সম্প্রতি প্যারিসে প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল আউটলুক-২০২০ এর রিপোর্ট অনুসারে ভারতের মধ্যে একমাত্র শহর কলকাতা ইলেকট্রিক বাস পরিচালনার ক্ষেত্রে নজির গড়েছে। সেই সঙ্গে ইলেকট্রিক বাস পরিষেবায় সারা বিশ্বের মধ্যে কলকাতা চতুর্থ স্থানে রয়েছে। একইভাবে ট্রামগুলিও পরিবেশবান্ধব।

এদিকে আমফান ঝড়ের তাণ্ডবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপের কচুবেড়িয়া জেটি ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে এই ব্যস্ত জেটিটি জরুরি ভিত্তিতে সারানো হয়ে গিয়েছে। একইভাবে আমফানের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া হাওড়ার গাদিয়াড়া জেটিও খুব অল্প সময়ের মধ্যে সারিয়ে ফেলা হয়েছে। গাদিয়াড়া থেকে নূরপুরের মধ্যে ফেরি পরিষেবাও শুরু হয়ে গিয়েছে বুধবার থেকে। আর বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হল কচুবেড়িয়া ও লট নং ৮ এর মধ্যে ভেসেল পরিষেবা। পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, আমপানের পর গণ পরিষেবা সচল করার জন্য অল্প কিছু দিন সময় চেয়েছিলাম। স্বল্প সময়ের মধ্যে পরিবহন পরিষেবা পুনরুদ্ধার করে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি।

ধারাবাহিকভাবে পাশে থাকার জন্য The Bengal Story র পাঠকদের ধন্যবাদ। আমরা যে ধরনের খবর করি, তা আরও ভালোভাবে করতে আপনাদের সাহায্য আমাদের উৎসাহিত করবে।

Login Support us

You may also like

Corona Treatment in Govt Health Scheme
Tant Artist Saraswati Debi From Nadia