লোকসভায় ফের পাশ তিন তালাক বিল, ওয়াকআউট কংগ্রেসের

বৃহস্পতিবার দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার বিতর্কের পর লোকসভায় পাশ হয় তিন তালাক বিল। তিন তালাক রুখতে আগেই অধ্যাদেশ জারি করেছিল সরকার।
এদিন বিলটি লোকসভায় বিলটি পেশ করেন আইনমন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ। বিলে বলা হয়েছে, কোনও মুসলিম পুরুষ এবার থেকে কোনও মহিলাকে তিন তালাক দিলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। তিন বছরের জেল ও জরিমানাও হতে পারে। তবে বিরোধীরা তিন তালাকের বিরোধী হলেও বিলে যেভাবে একে অপরাধের আওতায় এনে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে  তারা বিরোধিতা করেছে। এই শাস্তির প্রস্তাব বিল থেকে তুলে দেওয়ার দাবি জানায় বেশ কিছু বিরোধী দল। প্রয়োজনে বিলটি যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানোর দাবি জানায় তারা।  কংগ্রেস ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, সরকার এই বিলের মাধ্যমে মুসলিম মহিলাদের অধিকার রক্ষার কথা বলে মুসলিম পুরুষদের জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে। তবে বিরোধীদের এই দাবি মানতে চাননি আইনমন্ত্রী। রবিশংকর প্রসাদ লোকসভায় জানান, বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে না দেখে মানবিকতার নিরিখে দেখা উচিত বিরোধীদের। সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই এই তিন তালাককে অসংবিধানিক বলে জানিয়ে দিয়েছে এবং সরকারকে এর বিরুদ্ধে আইন আনতে বলেছে। জবাবে কংগ্রেসের সুস্মিতা দেব বলেন, সুপ্রিম কোর্ট তিন তালাক বাতিল করলেও তাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসাবে গণ্য করার কথা বলেনি। কিন্তু সরকারের দাবি, মহিলাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এই কড়া দাওয়াই দেওয়া প্রয়োজন ছিল।
যদিও সরকারের এই দাবির সাথে এদিন সহমত পোষণ করেনি অনেক দলই। সিপিএম, বিজু জনতা দল, এআইএডিএমকে বিলটি যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। বিরোধীরা বলেন, এই আইন অনুযায়ী তালাক দেওয়ার অপরাধে স্বামীর জেল হলে ওই মহিলার দায়িত্ব কে নেবেন, তা স্পষ্ট করে বলা নেই। এইভাবে কি কোনও পরিবারকে সংঘবদ্ধ করা যায়, এই প্রশ্নও তোলে বিরোধীরা।
জবাবে সরকার জানায়, মুসলিম মহিলাদের সুরক্ষা সংক্রান্ত বিল লোকসভায় পাশ হলেও রাজ্যসভায় আটকে আছে। কিন্তু তিন তলাককে ফৌজদারি অপরাধের বাইরে নিয়ে আসতে কোনওভাবেই রাজি না সরকার।
বিলে বলা হয়েছে, কেউ তিন তালাক দিলে,  সংশ্লিষ্ট মহিলা বা তাঁর নিকটতম কোনও আত্মীয় স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে পারবেন থানায়। তবে পুলিশ নয়, এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মহিলার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনে একমাত্র ম্যাজিস্ট্রেটই জামিন দিতে পারবেন স্বামীকে। অথবা স্বামী-স্ত্রী আলোচনা করে সমঝোতায় এলে অভিযোগ তুলে নেওয়া যেতে পারে।
কংগ্রেস বিলের বেশ কিছু অংশকে অসাংবিধানিক বলে দাবি করে বিলটি সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। একই কথা বলে তৃণমূল কংগ্রেস ও এনসিপিও। তবে তা মানতে চায়নি সরকার। ভোটাভুটিতে পাশ হয় বিল। ওয়াকআউট করে কংগ্রেস ও এআইএডিএমকে।
Comments
Loading...