পিআরসি ইস্যুতে অগ্নিগর্ভ অরুণাচল, কংগ্রেস-বিজেপির দায় ঠেলাঠেলি

পিআরসি বা স্থায়ী আবাসিক শংসাপত্র ইস্যুতে সোমবারও জ্বলছে ভারতের উত্তর-পূর্বের শেষতম রাজ্য অরুণাচল প্রদেশ। চাপের মুখে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডু আপাতত পিআরসি আনার সিদ্ধান্তে পিছু হঠলেও নিভছে না ইটানগরের আগুন। অরুণাচলের আদি বাসিন্দা নন এমন ছয় সম্প্রদায়কে রাজ্যে স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্র দেওয়া নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত। অরুণাচল প্রদেশের মন্ত্রী নাবাম রেবিয়ার নেতৃত্বে যৌথ উচ্চ পর্যায়ের কমিটি (জেএইচপিসি) বিধানসভার এই অধিবেশনেই পিআরসি সংক্রান্ত সুপারিশ পেশ করতে পারে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উত্তর-পূর্বের এই রাজ্য। রবিবার কার্ফু উপেক্ষা করে উপ মুখ্যমন্ত্রী চৌনা মেনের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর, মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডুর বাসভবন টার্গেট করে বিক্ষোভকারীরা। সেখানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ২ জনের মৃত্যু হয়, আহত হন তিনজন। হামলা চালানো হয় রাজধানী ইটানগরের ডেপুটি কমিশনারের অফিসে। ভাঙচুর করা হয় রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি অফিস, কার্যালয়, থানা ও অসংখ্য গাড়িতে। ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় চলচ্চিত্র উত্সবের সবকটি মঞ্চেও।
এই পরিস্থিতিতে পিআরসি নিয়ে ধীরে চলার নীতি গ্রহণ করে অরুণাচল সরকার। রবিবার রাতে অরুণাচল প্রদেশের মুখ্য সচিব সত্যপাল বিবৃতি দিয়ে জানান, পাকাপাকি বসবাসের ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত উদ্ভূত পরিস্থিতির জেরে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে সরকার।
এই বিবৃতি ঘোষণার পরে সোমবার অবশ্য রাজ্যের পরিস্থিতির খানিকটা উন্নতি হয়েছে। তবে এখনও ইটানগর ও নাহারলাগুন এলাকার দোকান-বাজার বন্ধ রয়েছে বলে খবর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পাঠানো হয়েছে আরও আধা সামরিক বাহিনী। ফ্ল্যাগমার্চ করছে সেনা।

মূলত অরুণাচল প্রদেশের নামসাই ও চাংলাং জেলায় বসবাসকারী আদিবাসী, দেওরি, গোর্খা, মিশিং, মোরান এবং সোনওয়াল কাচারি জনজাতির মানুষকে অরুণাচলের স্থায়ী আবাসিক হিসেবে শংসাপত্র দেওয়া নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত দীর্ঘদিন আগে। তবে অন্যান্যবারের সঙ্গে এবারের অশান্তির মূল পার্থক্য হল, এমন হিংসাত্মক আন্দোলনের চালিকাশক্তি কে, তা খুঁজতে এখনও হিমশিম খাচ্ছেন প্রশাসনের কর্তারা। পরিস্থিতি এমনই জটিল যে, নরম অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে গতবার এই ইস্যুতে আন্দোলনের নেতৃত্ব প্রদানকারী অল অরুণাচল প্রদেশ স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আপসু)-র অফিসেও ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে ক্ষমতাসীন বিজেপি অভিযোগের আঙুল তুলছে কংগ্রেসের দিকে। হিংসাত্মক আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে রাজ্যে যেনতেন প্রকারে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির চেষ্টা চালাচ্ছে কংগ্রেস, বলে অভিযোগ বিজেপির। যদিও কংগ্রেস এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা রক্ষার ভার কাদের উপর তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। আসন্ন লোকসভা ভোটের সঙ্গেই অরুণাচলে অনুষ্ঠিত হবে বিধানসভা নির্বাচনও। এই অবস্থায় পরিস্থিতির দিকে তীক্ষ্ণ নজর সব পক্ষেরই।

Comments
Loading...