করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কমপ্লিট লকডাউনের দিকে এগোচ্ছে ভারত। সোমবার বিকেল থেকে ২৭ তারিখ মাঝরাত পর্যন্ত লকডাউন কলকাতা সহ গোটা শহর-বাংলা। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে লকডাউন অমান্য করার হাজারো ছবি। যা উদ্বেগ বাড়িয়েছে বহুগুণ।
রবিবার জনতা কারফিউয়ের অভিজ্ঞতার পর সোমবার সকালে ট্যুইট করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। লেখেন, কেউ কেউ এখনও লকডাউন মানছেন না। লকডাউন অমান্য করলে ব্যবস্থা নিতে রাজ্যগুলোকে বলেছে কেন্দ্র। এই প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, লকডাউন অমান্যকারী বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানেন লকডাউন ভাঙার শাস্তি কতদিনের জেল?

 

কোন আইন?
আইনের নাম ‘দ্য এপিডেমিক ডিজিজেস অ্যাক্ট ১৮৯৭’। সহজ বাংলায় মহামারি আইন। আপাতত রাজ্যে লাগু রয়েছে মহামারি আইন।

 

কী আছে আইনে?
এই আইনের সেকশন ২ রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করেছে। সেকশন ২ বলছে, কোনও ধরনের রোগের ছড়িয়ে পড়া রুখতে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলো বিশেষ ব্যবস্থা নিতে পারে এবং জনজীবনে প্রয়োজনীয় বিধি নিষেধ আরোপ করতে পারে।
এই আইনের সেকশন ২ বলছে, যদি কোনও ভয়ঙ্কর রোগ ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার মনে করে সাধারণ নিয়ম বিধি এক্ষেত্রে কার্যকরী হচ্ছে না। তাহলে কোনও ব্যক্তি বা সংস্থাকে এই বিশেষ আইনের প্রয়োগাধিকার দিতে পারে রাজ্য সরকার।
এক্ষেত্রে সেকশন ২ য়ে স্পষ্ট করা আছে, রেল কিংবা অন্য কোনও মাধ্যমে যাত্রা করা কোনও ব্যক্তিকে দেখে যদি সরকারের মনে হয়, রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাহলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সেই ব্যক্তিকে বিভিন্ন বিধি নিষেধের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিতে পারে। তাঁকে পৃথক রেখে চিকিৎসার বন্দ্যোবস্ত করবে সরকার।
এই আইন অমান্যে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৮৮ ধারা প্রয়োগ করে শাস্তির সংস্থান রয়েছে।
ইন্ডিয়ান পেনাল কোডের ১৮৮ নম্বর ধারা বলছে, এই ধারা লঙ্ঘনে কোনও ব্যক্তির সাধারণভাবে সর্বোচ্চ ১ মাসের জেল এবং ২০০ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় হয়। বিশেষ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ১ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা দুই-ই একসঙ্গে হতে পারে।
এই আইনের প্রয়োগকর্তার বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ করা যাবে না বলেও রক্ষাকবচ প্রদান করা আছে শতাব্দী প্রাচীন এই আইনে।
আরও জানতে ক্লিক করুন, করোনার থাবায় বিশ্বজুড়ে কাজ হারাতে পারেন আড়াই কোটি মানুষ!

 

সাম্প্রতিক অতীতে এই আইনের প্রয়োগ
১. ২০১৮ সালে গুজরাতের গ্রামে কলেরার প্রকোপ রুখতে জারি হয়েছিল এই আইন
২. ২০১৫ সালে চণ্ডীগড়ে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় জারি হয়েছিল এই আইন
৩. ২০০৯ সালে সোয়াইন ফ্লু ছড়িয়ে পড়া আটকাতে পুণেতে জারি করা হয় এই আইন

 

কীভাবে এল এই আইন?
১৮৯০ সালের শেষদিকে তৎকালীন বম্বেতে প্লেগের প্রাদুর্ভাব হয়। রোগের ভয়ে শহর থেকে পালিয়ে যান বহু মানুষ। আর বাকিরা পড়ে থাকেন মৃত্যুমিছিল দেখতে কিংবা তাতে সামিল হতে।
তা বলে গবেষণা তো আর বন্ধ ছিল না। ১৮৯৬ সালের সেপ্টেম্বরে বম্বেতে গবেষণায় প্রথম ধরা পড়ে প্লেগের একটি বিশেষ ধারার কথা। নাম দেওয়া হয় বুবোনিক প্লেগ। কিন্তু সেই সময় রোগ এতই ছড়িয়ে পড়েছিল, যে মৃত্যুমিছিল ঠেকানো যায়নি।

 

কত লোকের মৃত্যু?
বম্বে প্লেগে মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা জানা যায় না। তবে একটি পরিসংখ্যান পাওয়া যায়। তা হল, সেপ্টেম্বরে ধরা পড়ার পর বুবোনিক প্লেগের শিকার হয়ে সপ্তাহে গড়ে ১৯০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আর এটা চলেছিল ১৮৯৬ সালের সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাস ধরে। এবার হিসাব করে নিন।
তারপরই এমন আইনের প্রয়োজনীয়তার কথা অনুভব করে ভারতের শাসনকর্তা ব্রিটিশ সরকার। তার পরের বছরই তৈরি হয় ‘দ্য এপিডেমিক ডিজিজেস অ্যাক্ট ১৮৯৭’।

ধারাবাহিকভাবে পাশে থাকার জন্য The Bengal Story র পাঠকদের ধন্যবাদ। আমরা শুরু করেছি সাবস্ক্রিপশন অফার। নিয়মিত আমাদের সমস্ত খবর এসএমএস এবং ই-মেইল এর মাধ্যমে পাওয়ার জন্য দয়া করে সাবস্ক্রাইব করুন। আমরা যে ধরনের খবর করি, তা আরও ভালোভাবে করতে আপনাদের সাহায্য আমাদের উৎসাহিত করবে।

Login Support us

You may also like

Coronavirus in Shoes
Is India In Stage 3