Take a fresh look at your lifestyle.

আদানি-অনিল সন্মুখ সমর! মুম্বই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ের টোল আদায়ের বরাত পেতে লড়াই দুই সংস্থার মধ্যে

টোল নিয়ে সম্মুখ সমরে আম্বানী-আদানি। তবে মুকেশ নন, তাঁর ভাই অনিল আম্বানীর রিলায়েন্স গোষ্ঠীর সঙ্গেই এবার মুম্বই-পুণে এক্সপ্রেসওয়েতে টোলের বরাত নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামল গৌতম আদানির সংস্থা। বুধবার এই খবর প্রকাশিত হয়েছে দ্য ইকনমিক টাইমসে।
দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক হিসেবে পরিচিত মুম্বই-পুণে এক্সপ্রেসওয়ে। ২০০৪ সালে এই সড়কের টোলের বরাত পায় আইআরবি ইনফ্রাস্ট্রাকচার। তাদের দেওয়া ১৫ বছরের বরাতের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত অগাস্টে। এই প্রেক্ষিতে নতুন করে টেন্ডার ডেকেছে টোলের পরিচালন সমিতিতে এই সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত এসবিআই ক্যাপিটাল মার্কেট। এবার দেশের ব্যস্ততম এবং রাজস্ব সংগ্রহে নজির গড়া মুম্বই-পুণে এক্সপ্রেসওয়েতে টোলের বরাত পেতে ঝাঁপিয়েছে অনিল আম্বানীর রিলায়েন্স এবং আদানি গোষ্ঠী।
মহারাষ্ট্র স্টেট রোড ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশন (এমএসআরডিসি) এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের (এনএইচএআই) আশা, টোল নিলামের প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে অন্তত ৮ হাজার কোটি টাকা আসবে তাদের ভাঁড়ারে।
সরকারি নথি বলছে, রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষেত্রে মুম্বই-পুণে এক্সপ্রেসওয়ে দেশের বাকি হাইওয়ে টোলকে অনেকটাই পিছনে ফেলে দিয়েছে। ২০১৯ অর্থবর্ষে টোল থেকে এসেছে ৯১৮ কোটি টাকা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আহমেদাবাদ-ভাদোদরা এক্সপ্রেসওয়ে। সেখানে রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ ৪২৯ কোটি।
এই অত্যন্ত ব্যস্ত সড়কে টোলের বরাত পেতে স্বভাবতই সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গিয়েছে। একদিকে আদানি গোষ্ঠী এই বরাত পেতে মরিয়া, অন্যদিকে তাদের শক্ত প্রতিযোগিতার মুখে ফেলছে অনিল আম্বানীর রিলায়েন্স।
সম্প্রতি এরিকসনের ঋণ শোধ করা নিয়ে বিপাকে পড়েছিল অনিল আম্বানীর সংস্থা। এরিকসন মামলায় রিলায়েন্স গ্রুপকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে টাকা শোধ করার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু সেই টাকা জোগাড় করে উঠতে ব্যর্থ হন অনিল আম্বানী। শেষ মুহূর্তে দাদা মুকেশ আম্বানী ৪৫৮ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা দিয়ে সংকট থেকে উদ্ধার করেন ভাইকে। এবার সেই অনিল আম্বানীর সংস্থাই টোলের বরাত নিয়ে গৌতম আদানির সংস্থার সঙ্গে সম্মুখ সমরে। এদিকে সম্প্রতি প্রকাশিত ফোর্বস তালিকায় চমকপ্রদ উত্থান হয়েছে গৌতম আদানির। ১০ নম্বর থেকে ৮ ধাপ উঠে তিনি দ্বিতীয় ধনীতম ব্যক্তি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। গৌতমের সামনে এখন কেবল অনিলের দাদা মুকেশ আম্বানী।
এই প্রেক্ষিতে এবার টোলের বরাত পেতে ঝাঁপিয়েছে দুই সংস্থা। অনিল আম্বানীর রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার বর্তমানে ১১ টি এমন এক্সপ্রেসওয়ে টোল প্লাজা সামলাচ্ছে। একইরকম অভিজ্ঞতা রয়েছে আদানি গোষ্ঠীরও। এই প্রেক্ষিতে বরাতের দৌড়ে শেষ হাসি হাসবে কে, আদানি না আম্বানী, সেটাই এখন দেখার।

Comments are closed.