‘বিরোধীরা অনুপ্রবেশকারীদের পক্ষ নিচ্ছেন’, নাগরিকপঞ্জি ইস্যুতে রাজ্যসভায় আক্রমণাত্মক অমিত শাহ

অসমের নাগরিকপঞ্জি ইস্যুতেতে কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্র। এই ইস্যুতে দেশজোড়া তীব্র বিতর্কের মধ্যেই মঙ্গলবার রাজ্যসভার দাঁড়িয়ে ‘বিরোধীরা অনুপ্রবেশকারীদের পক্ষ নিচ্ছেন’ বলে অভিযোগ করলেন বিজেপির সভাপতি এবং সাংসদ অমিত শাহ। পাশাপাশি তিনি বলেন,
‘কংগ্রেসই অসম অ্যাকর্ড করেছিল, যা নাগরিকপঞ্জি শুরুর একটা প্রক্রিয়া। কিন্তু তারা চালু করার সাহস দেখায়নি, আমরা দেখিয়েছি’। বিজেপি সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ অমিত শাহের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার বিক্ষোভে উত্তাল হল রাজ্যসভার অধিবেশন। শেষ পর্যন্ত দিনের মত মুলতুবি হয়ে যায় অধিবেশন।
নাগরিকপঞ্জি ইস্যুতে এই দিন অধিবেশনের শুরু থেকেই কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা রাজ্যসভায় দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। এই ইস্যুতে সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি জানানো হয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে। দফায় দফায় বিক্ষোভের জেরে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু অধিবেশন স্থগিত করে দেন। এরপর ফের অধিবেশন শুরু হলে বিরোধীদের কটাক্ষ করে অমিত শাহ বলেন ‘রাজীব গান্ধী প্রক্রিয়া শুরু করলেও সাহস ছিল না এটা করে দেখানোর, আমরা করে দেখিয়েছি। অনুপ্রবেশকারীদের কেন বাঁচাতে চাইছেন বিরোধীরা?’ অমিত শাহের এই মন্তব্যের পরেই ওয়েলে নেমে তুমুল বিক্ষোভ দেখান বিরোধীরা। যার জেরে বুধবার পর্যন্ত সভা মুলতুবি করে দেন চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু।
এদিন রাজ্যসভায় কংগ্রেস সাংসদ গুলাম নবি আজাদ বলেন, ‘বৈধ ভারতীয়দের কিছুতেই দেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে পারে না সরকার। নাগরিকপঞ্জিকে রাজনৈতিক বা ভোট ব্যাঙ্কের স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়। এটা মানবাধিকারের প্রশ্ন’। বহুজন সমাজবাদী পার্টি (বিএসপি) নেত্রী মায়াবতীও অসমে নাগরিকপঞ্জির খসড়া তালিকা থেকে ৪০ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেন। এই ইস্যুতে তুমুল বিতর্কের মাঝেই সংসদে উঠে আসে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ। তৃণমূল সাংসদ সুগত বসু কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র তোপ দেগে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সরকার অপারেশন ইনসানিয়ত শুরু করেছে’। পরে এই ইস্যুতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ বলেন, ‘দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে কোন আপোষ করা হবে না। রোহিঙ্গারা বেআইনিভাবে এই দেশে রয়েছেন, তাঁদের দেশে ফিরে যেতে হবে’।

Comments
Loading...