জগদ্দলের পর এবার আগরপাড়ায় বেআইনি অস্ত্র কারখানার হদিশ পেল এসটিএফ, উদ্ধার ৬২ টি বন্দুক

ফের বেআইনি অস্ত্র কারখানার হদিশ মিলল কলকাতার উপকন্ঠে। আগরপাড়া এলাকায় বেআইনি অস্ত্র কারখানার খোঁজ পেল কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটি এফ)। কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার, ৬ ই অগাস্ট রবীন্দ্রসরণি থেকে এসটিএফ-এর গোয়েন্দারা মহম্মদ আসফাক আহমেদ এবং মহম্মদ আসলাম নামে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে। আসফাকের বাড়ি ঝাড়খন্ডে এবং আসলাম মুঙ্গেরের বাসিন্দা। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বুধবার আগরপাড়ার একটি ডেরায় হানা দেন গোয়েন্দারা। সেখানে অস্ত্র তৈরির আস্ত কারখানা বানিয়ে ফেলেছিল দুষ্কৃতীরা। নানা ধরনের বন্দুক তৈরির বিপুল পরিমান জিনিস-পত্র বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তার সঙ্গে উদ্ধার হয়েছে ৬২ টি আধা-তৈরি বন্দুক।

এসটিএফ সূত্রে খবর, গত ৩০ শে জুলাই কলকাতার মনোহর দাস তরাগের সামনে থেকে ৩ জাল নোট কারবারীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার মধ্যে ১ জন সুকু শেখ মালদহের কালিয়াচকের বাসিন্দা। বাকি ২ জন মহম্মদ আমজাদ এবং মহম্মদ আবদুল্লার বাড়ি বিহারে। তাদের কাছ থেকে জাল ৫০০ টাকার নোটে ১ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত হয়। পাশাপাশি ৪০ টি বন্দুকও পুলিশ তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করে। এরপর ধৃত আবদুল্লাকে লাগাতার জেরা করে জগদ্দলের শ্রীরামপুর এলাকায় একটি অস্ত্র কারখানার হদিশ পান গোয়েন্দারা। সেখান থেকে ২০ টি আধা তৈরি বন্দুক উদ্ধার করা হয়েছিল। জগদ্দলের ওই কারখানা থেকে ৬ জনকে গ্রেফতারও করে এসটিএফ।
কলকাতার পার্শ্ববর্তী এলাকায় এমন পুরোদস্তুর বেআইনি অস্ত্র কারখানার হদিশ মেলায় গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালাচ্ছিলেন এসটিএফের গোয়েন্দারা। সেই সময়ে ধৃতদের জেরা করে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, কলকাতার উপকন্ঠে আরও কিছু এমন বেআইনি অস্ত্র কারখানা চলছে। কিন্তু তার হদিশ সেই সময় ধৃতরা দিতে পারেনি। তবে এই সব জায়গায় তৈরি বেআইনি অস্ত্র বিহার, ঝাড়খন্ডে নিয়মিত পাচার হচ্ছে বলে তথ্য উঠে আসে তদন্তে। এবং এই অস্ত্র কারবারীদের সঙ্গে জাল নোট পাচারের একাধিক চক্রও যুক্ত আছে বলে জানতে পারেন গোয়েন্দারা। এই তদন্তের সূত্র ধরেই সোমবার এসটিএফ রবীন্দ্রসরণি থেকে ২ জনকে গ্রেফতার করে। তাদের টানা জেরা করেই মেলে আগরপাড়ার এই বেআইনি অস্ত্র কারখানার হদিশ। আরও এমন কারখানা গজিয়ে উঠেছে কিনা তার খোঁজ চলছে।

Comments
Loading...