পুলওয়ামার ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নামা উচিত কি টিম কোহলির? এখন এই প্রশ্নেই আড়াআড়ি বিভক্ত প্রাক্তন ক্রিকেটাররা। একদিকে সচিন তেণ্ডুলকরের মত কিংবদন্তি বলছেন ম্যাচ না খেলে বিনা মেহনতে পাকিস্তানকে ২ পয়েন্ট দেওয়ার কোনও অর্থই হয় না। একথার সমর্থনে তিনি পেশ করেছেন বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের দুরন্ত রেকর্ডকে। তাঁর সমর্থনে দাঁড়িয়েছেন আর এক লিটল মাস্টার সুনীল গাভাসকার। অন্যদিকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্রিকেট বিশ্বকাপ শুধু নয়, সমস্ত খেলার ক্ষেত্রেই সম্পর্ক ছিন্ন করার পক্ষে দেশের ইতিহাসে অন্যতম সফল অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। আসন্ন বিশ্বকাপে পাক-কৌশল কী হবে তা নিয়ে যখন দ্বিধাবিভক্ত ক্রিকেটমহল তখন সেই বিতর্কে ঢুকে পড়ল সিপিএম।
সৌরভের বিরোধিতা করে, সচিন-গাভাসকারের মতকে সমর্থন করে ফেসবুকে পোস্ট সিপিএম বিধায়ক তথা শিলিগুড়ির মেয়র অশোক ভট্টাচার্যের।

সৌরভের সঙ্গে রাজ্যের প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠতা আজকের নয়। গ্রেগ চ্যাপেল জমানায় দল থেকে বাদ যাওয়ার পর সৌরভকে ভারতীয় দলে ফেরাতে অশোক ভট্টাচার্যের তৎপরতার কথা ময়দানে আজও শোনা যায়। এমনকী সিএবিতে কলকাতা পুলিশের তৎকালীন কমিশনার প্রসূন মুখোপাধ্যায়ের নির্বাচনের সময়ও শোনা গিয়েছিল, ডালমিয়া বিসিসিআইয়ে সৌরভের পক্ষ ঠিকমতো নিচ্ছেন না বলেই রাজ্যের বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সরকার কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে ডালমিয়ার বিরুদ্ধে নামিয়েছিলেন। তারপর গঙ্গা-মহানন্দা দিয়ে বয়ে গিয়েছে কোটি কোটি গ্যালন জল। খেলা ছেড়েছেন সৌরভ, মন্ত্রিত্ব হারিয়েছেন অশোক ভট্টাচার্য। কিন্তু সৌরভের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতায় ছেদ পড়েনি অশোক ভট্টাচার্যের। বিভিন্ন সময় শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছেন সৌরভ। একাধিকবার উত্তরের মাটিতে
নিলাম হয়েছে তাঁর ব্যবহৃত ক্রীড়া সরঞ্জাম। সবেরই মূল উদ্যোক্তা অশোক ভট্টাচার্য। সেই অশোক ভট্টাচার্যই পাকিস্তান ইস্যুতে শচীন, গাভাসকারের পক্ষ নিয়ে সরাসরি সৌরভের বিরোধিতা করলেন কেন? তাহলে কি সৌরভ-অশোক সম্পর্কের গভীরতা আর ততটা নেই?
এ প্রসঙ্গে thebengalstory.com এর তরফে শিলিগুড়ির মেয়র অশোক ভট্টাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ব্যক্তিগত নয়। সচিন যা বলেছেন আমি তার সঙ্গে একশো শতাংশ একমত। রাজনীতির বিষয় খেলার ময়দানে চলে এলে সমস্যা বাড়বে বৈ কমবে না। সৌরভ যদি সচিনের মতই বলতেন তাহলেই ভালো হত বলে আমি মনে করি।’
এদিকে, এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করে সোমবার ট্যুইট করেন সচিন। সৌরভের মন্তব্যকে টেনে সচিন লেখেন, ‘কারও নিজেকে ঠিক প্রমাণ করার দরকার নেই, আমরা সবাই জানি দেশের জন্য কী ভালো’।
আরও পড়ুন: শোনো ডাকে ওই একাদশ শহিদেরা